ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, চলতি বছরের জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মরিয়ম সংসদ সদস্যের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামসহ রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার আওতাধীন মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের প্ররোচনায় ওই বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে মরিয়ম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন—এমন অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায়। মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। পরে তিনি সেখানে পৌঁছে বাসায় কয়েকজনকে দেখতে পান। এরপর ঘরের ভেতরে মরিয়মকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়ার কথা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের সহায়তায় দরজা খুলে ঘরে প্রবেশের পর মরিয়মকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এ সময় বিছানার ওপর তাঁর লেখা একটি চিরকুট পাওয়ার কথাও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের বিষয়।
নিহতের বাবার অভিযোগ, অভিযুক্তদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং তাঁদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এসব অভিযোগ মামলায় উল্লেখ করা হলেও তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মরিয়মের মৃত্যুর আগে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে আরও একটি বিষয় আলোচনায় আসে। গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংসদ সদস্য ও মরিয়মের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানায়।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের বিষয় প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকেও বিষয়টি অবহিত করার কথা জানানো হয়।
এর আগে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরেকটি মামলাও হয়েছিল। গত ২১ জুলাই গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন বলে মামলার তথ্য থেকে জানা যায়।
এখন মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা নতুন মামলায় সেই ওবায়দুর রহমানকেই আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকেও আসামি করা হয়েছে।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশি তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় মামলার অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হওয়ার কথা। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।