ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
পটুয়াখালীর বাউফল পৌর শহরের চারটি এলাকায় পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে পাবলিক মাঠ, কুন্ডপট্টী, গোলাবাড়ী এবং উপজেলা পরিষদের সামনের এলাকায় এসব বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মিনিটের ব্যবধানে পৌর শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বিকট শব্দ শোনা যায়। অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দে ব্যবসায়ী, পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ পরপর শব্দ হওয়ায় অনেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যান।
খবর পেয়ে বাউফল থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পৌর শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু সায়েম জানান, তিনি দোকানে কাজ করার সময় হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পান। শব্দে ভয় পেয়ে তিনি দোকান থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে শব্দের উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কিছু বুঝতে পারেননি বলে জানান।
বিস্ফোরণের কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বিস্ফোরণগুলো ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগে বাউফল পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার রিয়াজ হোসেন খান বাউফলে গেলে তাকে ঘিরে ওই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আসন্ন পৌর নির্বাচনে তাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরে তার নেতৃত্বে একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাও বের হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে কার্তিক ও রুবেল নামের দুই ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা তাদের নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগ বা ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেন বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়েছে। তবে হামলার শিকার দুই ব্যক্তি নিজেদের ওই দুই সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, বিকেলের সমাবেশ ও প্রার্থী ঘোষণাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার সঙ্গে রাতের বিস্ফোরণের কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে এই ধারণার পক্ষে এখনো তদন্তে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পৌর শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মারধরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিস্ফোরণের ঘটনাটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।