ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, জাতীয় স্বার্থ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং জনগণের প্রত্যাশার বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর পৌঁছানোর পর সোমবার স্থানীয় সময় রাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন। তিনি জানান, দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা, আবেগ ও দেশপ্রেমকে ধারণ করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
মাহ্দী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায় এবং উন্নয়নের সুফল সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও জনগোষ্ঠীর কাছে কীভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব, সেসব বিষয়ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। তাঁর এই বক্তব্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ভাবনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দেশের অবস্থানও তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সংক্ষিপ্ত হিসেবে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন জানান, যাতায়াতের সময় বাদ দিলে নিউইয়র্কে চার কর্মদিবস অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে আয়োজিত স্বাগত ব্রেকফাস্ট রিসেপশনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উদ্বোধনী অধিবেশনেও যোগ দেবেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সফরসঙ্গীদের বিষয়ে মাহ্দী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৫ জন রয়েছেন। এর বাইরে প্রয়োজনীয় গণমাধ্যমকর্মী, নিরাপত্তা সদস্য এবং ব্যক্তিগত স্টাফ রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও নিউইয়র্ক সফরে গেছেন।
জাতিসংঘের অধিবেশনে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ও উন্নয়ন নিয়ে বক্তব্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। বিশেষ করে দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলাদা বৈঠক হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া। ফলে এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ নাও থাকতে পারে।
মাহ্দী আমিন আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ ও অধিকার বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কীভাবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যায়, সেই বার্তাও দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের অধিবেশনে তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।