নিজস্ব প্রতিবেদক:
পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করে নিজেই আইনি জটিলতায় পড়েছেন জাহানারা বেগম নামের এক নারী। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ার পর মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে বাদীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, পটুয়াখালী শহরের কলাতলা এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগমের দুই নাতিকে গত বছরের ১২ নভেম্বর জেলা মডেল মসজিদে চুরির অভিযোগে আটক করা হয়। মসজিদে অবস্থানরত খাদেম সাব্বির ও শাহ আলম নামের এক মুসল্লি তাদের আটক করে বিষয়টি মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. তানভিরুল ইসলামকে জানান।
পরে ইমাম বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই কিশোরকে থানায় নিয়ে যায়। তাদের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় অভিভাবকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর কিছুদিন পর পেশ ইমাম, মোয়াজ্জিন ও খাদেমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন জাহানারা বেগম। মামলায় হাসপাতালের কাগজপত্রও উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।
তদন্তের সময় মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং চিকিৎসকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, সেখানে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। গত ২৯ জুন আদালতে ওই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
পরে গত ২৮ জুলাই শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়ের করে আদালতকে বিভ্রান্ত করা এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানির অভিযোগে বাদীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের ওই নির্দেশের পর জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে সোমবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মামলার অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন ও আদালতের আদেশ—এসব নথির ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এগিয়েছে। মামলায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।