ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের পাশে ময়লা না ফেলতে সাইনবোর্ড টাঙানো হলেও তা মানা হচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ডের ঠিক নিচেই জমেছে বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা। এতে দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ ও পথচারীদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি সাইনবোর্ডে মহাসড়কের পাশে ময়লা না ফেলতে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে সাইনবোর্ডের নিচের অংশেই দেখা গেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। আশপাশেও ছড়িয়ে রয়েছে প্লাস্টিক, পচা বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় মহাসড়কের পাশে ময়লা না ফেলার নির্দেশনা থাকলেও রাত ও ভোরের দিকে বিভিন্ন যানবাহনে করে সেখানে আবর্জনা এনে ফেলা হয়। ফলে নিয়মিত পরিষ্কার করা হলেও কিছুদিনের মধ্যে আবারও একই জায়গায় ময়লার স্তূপ তৈরি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরের আগে ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লার ওপর বালু ফেলে সেগুলো আড়াল করা হয়েছিল। তাদের দাবি, সফরের পর এক মাস না যেতেই বালুর ওপর নতুন করে ময়লা জমতে শুরু করেছে। এতে আগের সমস্যাটি আবারও দৃশ্যমান হয়েছে।
স্থানীয় পথচারী ইমরান হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে কয়েক দিন ওই এলাকায় ময়লা দেখা যায়নি। পরে আবার আগের অবস্থার মতো হয়েছে। তার মতে, নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড থাকলেও সেটি কার্যকর না হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।
স্থানীয় ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে কটিয়াদী বাজার ও আশপাশের বাসাবাড়ির বর্জ্য সেখানে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্যও ওই এলাকায় ফেলা হতো বলে তিনি দাবি করেন। এসব বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ময়লা ফেলা বন্ধে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলেও নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নজরদারি বা কার্যকর ব্যবস্থা কতটা নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে মহাসড়কের পাশের এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক লাবনী আক্তার তারানা জানান, ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য একটি জায়গা নির্ধারণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জায়গাটি বন্দোবস্ত হলে সেখানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।
কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড ও জেলখানা সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে ময়লা না ফেলার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই দুই জায়গায় বালু ফেলার পাশাপাশি ময়লা না ফেলতে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।
তিনি জানান, জেলখানা সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে ময়লা ফেলা হচ্ছে না। তবে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডের পাশে সাইনবোর্ডের নিচেই আবার ময়লা জমছে। স্থানটি পরিষ্কার রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে পৌর প্রশাসককে পুনরায় চিঠি দেওয়া হয়েছে।