ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় একটি সেতু নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সরেজমিনে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকিতে অনিয়মের অভিযোগও পর্যালোচনা করছে সংস্থাটি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল বাসাইল উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র, নির্মাণকাজের তথ্য এবং ব্যবহৃত উপকরণ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে যৌথভাবে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও পরে তা বাড়ানো হয়।
বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণের মান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি দুদকের নজরে আসে।
এর আগে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরির সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, রাতে স্ল্যাব ঢালাইয়ের কাজ চলার সময় তারা বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি দেখতে পান। পরে তারা নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং মোবাইল ফোনে ওই দৃশ্য ধারণ করেন। তাদের বাধার পর কিছু সময়ের জন্য কাজ বন্ধ থাকলেও পরবর্তী সময়ে আবার কাজ শুরু করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
তবে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা এবং নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাই করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে পটুয়াখালীতেও সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আলাদা অভিযান চালিয়েছে দুদক। সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নে টিআর প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ করা কাজ বাস্তবায়ন না করেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই এলাকায় একটি পাঠাগারের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় না করে ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণে ব্যবহারের অভিযোগও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালীর অভিযানে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বরাদ্দ, অর্থ ছাড়, বাস্তবায়ন এবং ব্যয়ের নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।