ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ২ কেজি ৭৫০ গ্রাম ওজনের একটি বড় আকৃতির ইলিশ ১৩ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মতিরহাট মাছঘাটে স্থানীয় জেলে ফারুক মাঝির কাছ থেকে মাছটি কিনে নেন ঢাকার এক মাছ ব্যবসায়ী।
ঘাটসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সাগর থেকে মাছ ধরে প্রায় এক সপ্তাহ পর ঘাটে ফিরেছেন ফারুক মাঝি। ওই সময় তিনি বিভিন্ন আকারের ইলিশসহ প্রায় দেড় লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেন। এর মধ্যে বড় আকৃতির ইলিশটি আলাদাভাবে ১৩ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়।
মাছটি কিনেছেন ঢাকার ব্যবসায়ী বাহার মিয়া। তিনি জানান, মতিরহাট থেকে ইলিশ সংগ্রহ করে ঢাকার বাজারে বিক্রি করেন। বড় আকারের ইলিশ হওয়ায় পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে কিছুটা লাভের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
ব্যবসায়ীটির দাবি, মাছটি ঢাকার বাজারে ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকার কাছাকাছি দামে বিক্রি হতে পারে। সে হিসাবে স্থানীয় ঘাট থেকে কেনার পর বাজারজাত পর্যায়ে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত দামের পার্থক্য হতে পারে। তবে চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য বাজারের চাহিদা ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।
তিনি আরও জানান, ছোট আকারের ইলিশে সাধারণত কেজিপ্রতি তুলনামূলক কম লাভ থাকে। বড় ইলিশের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি থাকায় ব্যবসায়ীরা কিছুটা বেশি লাভের আশা করেন।
মতিরহাটের স্থানীয় আড়তদার আনোয়ার হোসেন বলেন, নদীতে আগের তুলনায় ইলিশের পরিমাণ কমেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জেলেদের মাছ ধরার খরচও বেড়েছে। ফলে মাছ আহরণে তাদের নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নদীতে ইলিশের সরবরাহ কম থাকলেও সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা মোটামুটি ইলিশ পাচ্ছেন। বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়লে তা ঘাটে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বড় আকারের ইলিশ বাজারে এলে ক্রেতাদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়। ওজন ও আকারের পাশাপাশি মাছের মান, সরবরাহ এবং বাজারের চাহিদার ওপর এর দাম নির্ভর করে। ফলে একই আকারের মাছের দাম স্থানভেদে ভিন্ন হতে পারে।
কমলনগরের মতিরহাট মাছঘাটে ২ কেজি ৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশটির ১৩ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ার ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।