
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় বিয়ের আয়োজন চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে কিশোরীকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। একই ঘটনায় বাল্যবিবাহ আয়োজন ও এতে সহযোগিতার অভিযোগে কিশোরীর বাবাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কুড়ুলগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন।
প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই কিশোরীর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। একপর্যায়ে সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসনের কাছে খবর যায়। পরে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেন।
বিয়ের আয়োজন বন্ধ করার পর অসুস্থ কিশোরীকে চিকিৎসার জন্য দর্শনা মুক্তি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় বাল্যবিবাহ আয়োজন এবং এতে সহযোগিতা করার অভিযোগে কিশোরীর বাবা রফিকুল ইসলাম ওরফে কচির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারায় তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে বন্ধ করতে নিয়মিতভাবে নজরদারি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাল্যবিবাহের মতো ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সসংক্রান্ত আইন রয়েছে। তাই কোনো কিশোরী বা কিশোরের অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ের আয়োজন করা হলে তা আইনগত জটিলতার কারণ হতে পারে। দামুড়হুদার এই ঘটনায়ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আয়োজন বন্ধ করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে।
ঘটনার সময় কিশোরীর অসুস্থ হয়ে পড়া এবং পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। তবে তার অসুস্থতার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে।




