ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯০১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৮০২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ডেঙ্গুতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৮৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভর্তি হওয়া রোগীদের বড় অংশই প্রাপ্তবয়স্ক। মোট ৯০১ রোগীর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ৮৩৩ জন, যা মোট রোগীর প্রায় ৯২ দশমিক ৫ শতাংশ। শিশু রোগীর সংখ্যা ৬৮ জন, অর্থাৎ প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছিল বেশি। ৮৩৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর মধ্যে ৬১০ জন পুরুষ এবং ২২৩ জন নারী। অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের প্রায় ৭৩ শতাংশ পুরুষ। তবে শুধু হাসপাতালের ভর্তি-তথ্যের ভিত্তিতে পুরুষদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার প্রকৃত ঝুঁকি নারীদের তুলনায় বেশি—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। চলাফেরা, কর্মস্থলে অবস্থান, মশার সংস্পর্শ এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতাসহ বিভিন্ন কারণ এই ব্যবধানের পেছনে থাকতে পারে।
আগস্ট মাসেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছিল। মাসের শুরুতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন আটজন। ৩০ আগস্ট সেই সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়ায়। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৪২ জন বেড়েছিল।
১ থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে ২৫ আগস্টের তথ্য বাদ দিয়ে ২৯ দিনের হিসাবে হাসপাতালে নতুন করে ২২১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। একই সময়ে ১৭৬ জন চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পান। আগস্ট মাসে ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু হয়।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলাতেও ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। ওই সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬৪৩ জন, সিরাজগঞ্জে ৩৬৩ জন, বগুড়ায় ১৬৫ জন, নাটোরে ৫৬ জন, পাবনায় ৪২ জন, নওগাঁয় ৪১ জন, রাজশাহীতে ২৫ জন এবং জয়পুরহাটে চারজন আক্রান্ত হয়ে সেবা নিয়েছেন।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকেও রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। ১৯ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত দিনে হাসপাতালে নতুন করে ১৯৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ১৯৩ জন চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এই সাত দিনে ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
ওই সাত দিনে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২০, ৩১, ২৬, ২৯, ২৪, ৪২ ও ২৫ জন। এর মধ্যে ২৪ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ ৪২ জন রোগী ভর্তি হন। ২৫ সেপ্টেম্বর নতুন করে ২৫ জন ভর্তি হওয়ার বিপরীতে ৪০ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়েন।
২২ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১০৭ জনে পৌঁছেছিল। পরবর্তী কয়েক দিনে তা কমে ২৫ সেপ্টেম্বর ৮৬ জনে দাঁড়ায়। তবে নতুন রোগী ভর্তি, ছাড়পত্র এবং মৃত্যুর ঘটনা একই সময়ে চলতে থাকায় হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসার চাপ পুরোপুরি কমেনি।
সাত দিনের মৃত্যুর হিসাবেও বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে তানোরের ৫২ বছর বয়সী মো. আনোয়ার মন্ডল, বাঘমারার ১৬ বছর বয়সী সাথী রাণী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষক আব্দুল করিম এবং রাজশাহীর বোয়ালিয়ার ৩০ বছর বয়সী নাসরিনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বরও একজনের মৃত্যু হয়েছে, তবে হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী তার মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম উল্লেখ করা হয়েছে। নাসরিন ২০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মারা যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল।
চলতি বছরে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৯০১ রোগীর মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, মোট ভর্তি রোগীর তুলনায় মৃত্যুর হার প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ৮০২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন, যা মোট রোগীর প্রায় ৮৯ শতাংশ।
হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বরের আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৫ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন এবং ৪০ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পান। ওই সময় হাসপাতালে ৮৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।