ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এনআরবি ব্যাংক পিএলসি ৩০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাংকের টায়ার-২ মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই সাত বছর মেয়াদি এই বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বন্ড ইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের ২২৯তম সভায় ‘এনআরবি ব্যাংক ১ম সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড’ ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ওই সভায় বন্ডটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত বন্ডের মোট মূল্য হবে ৩০০ কোটি টাকা। এটি জামানতবিহীন ও রূপান্তরযোগ্য নয়। অর্থাৎ বন্ডের বিপরীতে কোনো জামানত থাকবে না এবং এটি শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগও থাকবে না। বন্ডটির অর্থ মেয়াদ শেষে পরিশোধ করার কাঠামো রাখা হয়েছে।
সাত বছর মেয়াদি এ বন্ড কুপনযুক্ত ও ভাসমান সুদহারের ভিত্তিতে ইস্যু করা হবে। পাশাপাশি এটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকের টায়ার-২ মূলধন শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহারের কথা জানিয়েছে এনআরবি ব্যাংক।
ব্যাংকিং খাতে টায়ার-২ মূলধন মূলধন কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এ ধরনের মূলধন ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ও মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে। এনআরবি ব্যাংকের ক্ষেত্রেও প্রস্তাবিত বন্ডের মূল উদ্দেশ্য মূলধন কাঠামো আরও শক্তিশালী করা।
এদিকে বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটি লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা বা ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১৩ পয়সা। এর আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ২৪ পয়সা লোকসান হয়েছিল।
এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি ফলাফলে ১ টাকা ৩৭ পয়সার পরিবর্তন হয়েছে। বছরের প্রথম ছয় মাসের ফলাফলে এপ্রিল থেকে জুন—দ্বিতীয় প্রান্তিকের পারফরম্যান্সও ভূমিকা রেখেছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে এনআরবি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ২৯ পয়সা লোকসান হয়েছিল। ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকের শেয়ারপ্রতি ফলাফলেও আগের বছরের তুলনায় ১ টাকা ৩০ পয়সার উন্নতি হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিপিএস ছিল ১৩ টাকা ৮ পয়সা।
ব্যাংকের লোকসান থেকে মুনাফায় ফেরার পরপরই ৩০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বন্ডটি বাস্তবে ইস্যু করতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এর পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া যাবে।
এনআরবি ব্যাংকের পক্ষ থেকে বন্ডটির মাধ্যমে টায়ার-২ মূলধন বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ে ব্যাংকের সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফলে মুনাফায় ফেরার তথ্যও প্রকাশ পেয়েছে। ফলে ব্যাংকের মূলধন কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ এবং সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফল—দুটি বিষয়ই বর্তমানে আলোচনায় এসেছে।