ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
কম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের আওতায় কারা থাকবেন, সে বিষয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে সরকার। নতুন নিয়মে টিসিবির সুবিধাভোগী নির্বাচনের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র, কার্ড বিতরণ এবং পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা ২০২৬ সালের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হতদরিদ্র পরিবার, নিম্ন আয়ের ব্যক্তি, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, চা-শ্রমিক, চাতালশ্রমিক ও কারখানার শ্রমিকদের টিসিবির কার্ডের জন্য বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তিরাও এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।
নারীপ্রধান অসচ্ছল পরিবারের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার রাখার কথা বলা হয়েছে। বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্ত এবং অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে। যেসব দরিদ্র পরিবারের শিশু বা প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে, তাদেরও বিশেষভাবে বিবেচনা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি টিসিবির সুবিধা নিতে পারবেন না। কার্ডের জন্য আবেদন বা নির্বাচনের ক্ষেত্রে উপকারভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। প্রয়োজন অনুযায়ী স্বামী বা স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রও লাগতে পারে। পাশাপাশি নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত একটি সচল মোবাইল নম্বর থাকতে হবে।
উপকারভোগীকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা কিংবা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। নির্বাচিত পরিবারের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হবে। এ জন্য টিসিবির সেবা অ্যাপের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তথ্যভান্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় শুধু কার্ড বিতরণ নয়, পণ্য বিক্রির পুরো প্রক্রিয়ায় নজরদারির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পৃথক তদারকি ব্যবস্থা থাকবে। এসব কমিটি উপকারভোগী নির্বাচন, তথ্য সংরক্ষণ, কার্ড বিতরণ এবং পণ্য বিক্রির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন কার্ডধারী পরিবারকে নির্ধারিত হারে ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনি দেওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে নির্ধারিত পরিমাণ হিসেবে দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি মসুর ডাল এবং এক কেজি চিনি উল্লেখ করা হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থাকলে পাঁচ কেজি চালও দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার পণ্যের পরিমাণ, সংখ্যা এবং মূল্য পরিবর্তন করতে পারবে।
রমজান ও ঈদুল আজহার মতো বিশেষ সময়ে সরকার চাইলে নির্ধারিত কার্ডধারীদের বাইরেও ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছেও পণ্য বিক্রির সুযোগ থাকবে।
পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিলারের দোকানে মূল্যতালিকা প্রদর্শনের নির্দেশনা রয়েছে। পণ্য পাওয়ার তারিখ ও সময়, নির্ধারিত মূল্য এবং বিতরণ করা পণ্যের পরিমাণ সম্পর্কে কার্ডধারীদের জানাতে হবে। বিক্রয়কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ইউনিয়ন পর্যায়ের ট্যাগ টিম ডিলারের দোকান ও বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে পণ্য সঠিকভাবে বিতরণ হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবে। একই সঙ্গে গুদাম ব্যবস্থাপনাতেও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনি সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। নির্ধারিত দামে এসব পণ্য বিক্রিতে সরকারের ভর্তুকিও থাকবে। এর মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার ব্যয় কিছুটা কমানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকায় উপকারভোগী নির্বাচন থেকে শুরু করে পণ্য বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে কার্ড পেতে আগ্রহীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, নিজের নামে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর এবং স্থানীয় স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার শর্ত পূরণ করতে হবে। তবে চূড়ান্তভাবে কারা সুবিধাভোগী হবেন, তা নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের পর ঠিক করা হবে।