Eng
গাজীপুর, জাতীয়, লিড নিউজ

প্রিজনভ্যান থেকে পালানো পিচ্চি রাজাকে খুঁজছে পরিবার

প্রকাশিত: , ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৬:২৩ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

প্রিজনভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’র সন্ধান চেয়েছে তার পরিবার। একই সঙ্গে তাকে উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার পেছনে কোনো ভিন্ন কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তার স্ত্রী খুশি। এ সময় তিনি কথিত সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, ব্ল্যাকমেইল ও নানা ধরনের চাপ প্রয়োগের অভিযোগও তোলেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য জানা যায়নি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন খুশি। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তার স্বামীকে দ্রুত খুঁজে বের করা এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।
পুলিশ ও কারা-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরার পথে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় একটি প্রিজনভ্যান থেকে রাজা পালিয়ে যান। ওই গাড়িতে মোট ৩০ জন আসামি ছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে অন্য ২৯ জনকে কারাগারে নেওয়া সম্ভব হলেও রাজা সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন।
জানা গেছে, প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে তাকে শৌচাগারে নেওয়ার সময় তিনি দায়িত্বে থাকা সদস্যদের চোখ এড়িয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদের মধ্যে একজন উপপরিদর্শক, তিনজন কনস্টেবল এবং একজন নায়েক রয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনার কারণ ও দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রাজাকে পুনরায় আটক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। পুলিশের তথ্যে, তার বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ২৫টি মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়েছিল। সে সময় তার কাছ থেকে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের দাবি করা হয়। চলতি বছরের ১৯ মে স্ত্রী ও শ্যালককে নিয়ে নেপাল থেকে দেশে ফেরার সময় ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে খুশি দাবি করেন, স্বামীকে কারাগার থেকে বের করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম ধাপে ধাপে তাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নগদ অর্থের পাশাপাশি মোবাইল আর্থিক সেবা ও ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। অর্থের ব্যবস্থা করতে তাদের গাড়ি ও স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করতে হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
খুশির অভিযোগ, পরে জেলগেট থেকে রাজাকে বের করে দেওয়ার কথা বলে আরও ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু তার স্বামী মুক্তি পাননি। বরং বিভিন্ন মামলায় তাকে আটক রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে চাপ প্রয়োগ এবং যোগাযোগ বন্ধ করলে তার স্বামীকে মুক্ত করা হবে না—এ ধরনের ভয় দেখানোর অভিযোগও করেন খুশি। এসব দাবির পক্ষে মোবাইল ফোনের কথোপকথন, লেনদেনের তথ্য ও বিভিন্ন স্ক্রিনশট রয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রিজনভ্যান থেকে রাজা পালানোর ঘটনাটি নিয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। খুশির দাবি, ঘটনার পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে পুলিশ ও কারা-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, শৌচাগারে নেওয়ার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের নজর এড়িয়ে তিনি পালিয়ে যান। ফলে পরিবারের অভিযোগ এবং সরকারি তদন্তে উঠে আসা তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার বিষয়।
এদিকে রাজাকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে প্রিজনভ্যান থেকে পালানোর ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তে নির্ধারণ করা হবে।
পরিবারের পক্ষ থেকে রাজাকে দ্রুত খুঁজে বের করার পাশাপাশি তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাসহ উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।