এম নুরুল হুদা চৌধুরী, চট্টগ্রাম:
আনোয়ারা-কর্ণফুলী এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) পরিকল্পিত ভূমি অধিগ্রহণ, হুকুম দখল, নগরায়ন ও আবাসিক প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে কৃষিজমি সংরক্ষণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং স্থানীয় জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন। এ বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যানের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী বর্তমানে চট্টগ্রামের দ্রুত পরিবর্তনশীল অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ অঞ্চলে পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রয়োজন হলেও উন্নয়নের নামে কৃষিজমি কমে গেলে স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর জমি হারানোর ফলে তাদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসার আশঙ্কা রয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আনোয়ারা-কর্ণফুলীর বড়উঠান, চাতরী, বৈরাগ ও বারখাইন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭ হাজার একরের বেশি ভূমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে সিডিএ এগোচ্ছে বলে স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, কেবল জমি অধিগ্রহণ করে আবাসিক প্লট তৈরি করলেই একটি পরিকল্পিত নগর গড়ে ওঠে না। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা ও পরিবেশগত ভারসাম্যের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
স্মারকলিপিতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশন, সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি খেলার মাঠ এবং উন্মুক্ত স্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার খাল, জলধারা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষিজমি এবং পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন। জমি অধিগ্রহণের কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাদের যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে স্থানীয় জনগণের মতামত ও অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ ও নগরায়ন পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রম যেন ভবিষ্যতে এলাকার মানুষের জন্য সামাজিক ও পরিবেশগত সংকট তৈরি না করে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
আনোয়ারা-কর্ণফুলীর পরিকল্পিত উন্নয়নের ক্ষেত্রে কৃষিজমি, স্থানীয় জনগণের স্বার্থ ও নাগরিক সুবিধার মধ্যে সমন্বয় রেখে প্রকল্প গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে ভূমি হারানো পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে।