Eng
আইন-আদালত, জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ

জিয়াউলের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য আজ আবার

প্রকাশিত: , ৪ অক্টোবর ২০২৬ | ৮:৫৯ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে সংঘটিত বলে অভিযোগ থাকা একাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দেবেন মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।
রোববার (৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার অসম্পন্ন জবানবন্দি গ্রহণের কথা রয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার ১৫তম সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ওই দিন তিনি তার জবানবন্দির একটি অংশ উপস্থাপন করেন। বাকি অংশ উপস্থাপনের জন্য ট্রাইব্যুনাল রোববারের দিন নির্ধারণ করেন।
জবানবন্দির পরবর্তী অংশে তদন্ত কর্মকর্তা মামলার তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে তার কার্যক্রম, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা তথ্য-উপাত্ত ও আলামত এবং সেগুলোর সঙ্গে মামলায় আনা অভিযোগের সম্পর্ক তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। তদন্তের সময় সংগৃহীত উপকরণ কীভাবে মামলার অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সে বিষয়েও তিনি ট্রাইব্যুনালে বক্তব্য দেবেন।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের ভাষ্য, এ মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি ও আসামিপক্ষের জেরা শেষ হওয়ার পর জিয়াউলের পক্ষ থেকে সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এরপর মামলার যুক্তিতর্কের পর্যায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর মামলায় সাক্ষ্য দেন কামরুল ইসলাম। তদন্তের সময় বিভিন্ন স্থান থেকে জব্দ করা আলামত সম্পর্কে তিনি ট্রাইব্যুনালে তথ্য উপস্থাপন করেন। একই দিনে মামলার ১৩তম সাক্ষী হিসেবে সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। মামলায় তিনি সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী ছিলেন বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইল এলাকায় সজলসহ তিনজনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘটনায় জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগের সময়কাল ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এই অভিযোগে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগেও একই সময়কালে ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, বরগুনার বলেশ্বর নদী এবং বাগেরহাটের শরণখোলা ও সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় কথিত বনদস্যু দমনের অভিযানের আড়ালে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউলের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় এবং একই দিনে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
মামলার বর্তমান পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তার অসম্পন্ন জবানবন্দি ও পরবর্তী জেরা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এরপর আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য এবং যুক্তিতর্কের মাধ্যমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরবর্তী পর্যায়ে এগিয়ে যাবে।