ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
স্থায়ী আবাসন বা নিজস্ব বসতভিটা না থাকার কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ আটকে যাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। মিশন আচার্য নামে এক প্রার্থীর নিয়োগ জটিলতা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তিনি জানতে চান, নিজস্ব আবাসন না থাকলে কাউকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে না—এমন কোনো বিধান বা নির্দেশনা রয়েছে কি না।
রোববার (৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ওই কথোপকথনে শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ আটকে দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান। তিনি জানতে চান, কোন বিধান বা নির্দেশনার ভিত্তিতে মিশন আচার্যকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অধিদপ্তর কী নিয়ম অনুসরণ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট মতামত বা নথি কবে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়েও তথ্য চান তিনি।
কথোপকথনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারও আবাসন না থাকলে প্রয়োজন হলে সেটির ব্যবস্থা করার সুযোগ থাকা উচিত। নিজস্ব জায়গা-জমি বা বসতভিটা না থাকলে একজন ব্যক্তি শিক্ষক হতে পারবেন না—এমন কোনো আইন বা বিধান আছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। স্থায়ী ঠিকানা নিয়োগের শর্ত হয়ে থাকলে বিষয়টি কীভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে, সেটিও স্পষ্ট করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন।
এর আগে একই দিন মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী পদমর্যাদার কর্মকর্তা মো. রাশেদ খাঁন। সেখানে মিশনের নিয়োগপত্র আটকে থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে জটিলতাটি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
মিশন আচার্য ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে বড় হয়েছেন। ২০২৫ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়ে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তবে স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় তার নিয়োগপত্র আটকে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
একই সময়ে সুপারিশ পাওয়া ১৮২ জনের মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও মিশন নিয়োগপত্র পাননি। আবেদনে স্থায়ী ঠিকানার পরিবর্তে কলাবাগানের ভাড়া বাসার ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে স্থায়ী ঠিকানা সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি।
পরিবারের দাবি, পুলিশি যাচাইয়ে কলাবাগানের ভাড়া বাসায় মিশনের বসবাসের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। তার নানা বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে হলেও সেখানে পরিবারের নিজস্ব বাড়ি নেই। ২০২২ সালে এক মামা তাকে দুই শতক জমি লিখে দেন। চাকরি পাওয়ার পর সেখানে ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল তার।
মিশনের জীবনে আর্থিক ও পারিবারিক সংকটও ছিল। তার জন্মের আগেই বাবা পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যান। পরে মা গৃহপরিচারিকার কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে মিশন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক পদে সুপারিশ পাওয়ার পর স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে তার নিয়োগ আটকে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর আলোচনা তৈরি হয়। শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে মিশনের নিয়োগপত্র পাওয়ার জটিলতা সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।