ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
দেশের বাজারে আবারও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
নতুন দামের ফলে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে আগের তুলনায় গ্রাহকদের অতিরিক্ত ২৫২ টাকা ব্যয় করতে হবে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে একই পরিমাণ এলপিজির দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তারও আগে ১২ কেজির সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।
এলপিজির দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে রান্নার জ্বালানি হিসেবে এটি ব্যবহার করা পরিবারগুলোর ওপর। বিশেষ করে যেসব পরিবার নিয়মিত সিলিন্ডার কিনে রান্নার কাজে ব্যবহার করে, তাদের মাসিক ব্যয়ের সঙ্গে নতুন করে জ্বালানি খরচ যুক্ত হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয়ের মধ্যে থাকা পরিবারগুলোর জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।
এলপিজির ব্যবহার শুধু বাসাবাড়িতে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবহন খাতসহ বিভিন্ন ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও এ জ্বালানির ব্যবহার রয়েছে। ফলে নির্ধারিত দাম বাড়ার কারণে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বাড়তে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন সেবা ও পণ্যের খরচে পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি ও ব্যয় কাঠামোর ওপর।
তবে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে এলপিজি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হওয়ার কথা জানা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে এর দাম ২ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব ক্ষেত্রে বিক্রির স্থান, সরবরাহ পরিস্থিতি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কারণে দামের পার্থক্য থাকতে পারে।
এদিকে নতুন করে নির্ধারিত মূল্যে এলপিজির বাজার পরিস্থিতি কেমন থাকে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্ধারিত মূল্য কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে গ্রাহকরা ঘোষিত দামে সিলিন্ডার কেনার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে বাজারে যদি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির প্রবণতা থাকে, তাহলে ভোক্তাদের ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
এলপিজির মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে জ্বালানি ব্যবহারকারী পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয়ের হিসাবেও পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে নিয়মিত সিলিন্ডার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের মাসিক বাজেটে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হতে পারে। নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর বাজারে সরবরাহ ও খুচরা বিক্রয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।