ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এবার জাতীয় পর্যায়ে দেশের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের এ সম্মাননার আওতায় আনা হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং শিক্ষকতার পেশাগত মর্যাদা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই এবারের আয়োজন করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও সোমবার বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্যে শিক্ষক পেশার সুরক্ষা, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একটি বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননা সনদ এবং নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এবারের আয়োজনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননার পরিধি বৃদ্ধি। এর আগে তুলনামূলকভাবে সীমিতসংখ্যক শিক্ষক এ ধরনের জাতীয় স্বীকৃতি পেলেও এবার প্রথমবারের মতো প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত মোট ১০০ জন শিক্ষককে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শিক্ষা স্তর ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য আলাদা ক্যাটাগরিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাশাপাশি মেডিকেল, কৃষি, প্রকৌশল এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও এ স্বীকৃতির আওতায় রয়েছেন। এ ছাড়া বিশেষ বিবেচনার জন্যও একটি ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে।
শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাদের পেশাগত অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি এবারের উদ্যোগে গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে শিক্ষকদের যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা, জেলা এবং জাতীয় পর্যায়ে দিবসটি পালনের পাশাপাশি শিক্ষকদের অবদান নিয়ে আলোচনা ও বিভিন্ন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সততা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাশাপাশি গবেষণাভিত্তিক ও বাস্তবমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার সঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৯৪ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ৫ অক্টোবর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। শিক্ষকতার পেশার গুরুত্ব, শিক্ষকদের অধিকার এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় তাদের অবদানের বিষয়টি সামনে আনাই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
এবার বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে ১০০ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ শিক্ষা অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের একই জাতীয় আয়োজনের আওতায় স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষকতার পেশার মর্যাদা ও অবদানের বিষয়টি আরও সামনে আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।