ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫১ পিস ইয়াবাসহ এক বিএনপি নেতাকে আটক করার পর দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি মো. সেলিম মিয়া (৪৫) মেরুং ইউনিয়ন উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বোয়ালখালী ইউনিয়নের বোয়ালখালী গরু বাজারের পশ্চিম পাশে একটি ফার্নিচারের দোকানের সামনে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সেলিম মিয়াকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সময় একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটক সেলিম মিয়া উপজেলার মধ্য বোয়ালখালী এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মো. নুরুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় তিনি মেরুং ইউনিয়ন উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
আটকের পরদিন সোমবার সকালে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় উপজেলা বিএনপি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থানীয় নেতারা।
দীঘিনালা উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সুশীল জীবন ত্রিপুরা জানান, সেলিম মিয়া মেরুং ইউনিয়ন উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী জানিয়েছেন, রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ সেলিম মিয়াকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, অভিযানে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে মামলায় আনা অভিযোগের বিষয়ে আটক ব্যক্তির বক্তব্য বা তার পক্ষের কোনো ব্যাখ্যা জানা যায়নি।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। একজন দলীয় নেতাকে মাদকসংক্রান্ত মামলায় আটকের পর দ্রুত সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে আদালতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এবং অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। বর্তমানে পুলিশি অভিযোগের ভিত্তিতেই সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।