Eng
জাতীয়, রাজশাহী, লিড নিউজ

রামেবির ভিসিকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করার অ/ভিযো/গ

প্রকাশিত: , ৬ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:৫২ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নাজমুল হোসাইনকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একদল ব্যক্তি প্রবেশের পর এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজ ঢাকার ঠিকাদারদের দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশের পর তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। পরে আগে থেকে প্রস্তুত করা একটি পদত্যাগপত্রে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও উপাচার্যের পিএস নাজমুল হোসাইনের কাছ থেকেও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি স্বাক্ষর করতে আপত্তি জানালে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে চাপের মুখে তাকেও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়।
নাজমুল হোসাইন জানান, ঘটনার আগে সকাল ১০টা থেকে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ের একটি অনলাইন বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর তারা উপাচার্যকে গালিগালাজ করতে থাকেন এবং তার কাছ থেকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেন বলে তিনি দাবি করেন।
স্বাক্ষর নেওয়ার পর উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার কথাও জানা গেছে।
এ ছাড়া উপাচার্যের কক্ষ থেকে কম্পিউটারের সিপিইউ এবং সিসিটিভি ব্যবস্থার কিছু যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় কারা ঠিক কী উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিলেন এবং পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে কীভাবে বিবেচিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাইও সম্ভব হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপরই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে।