নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভারতীয় চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোয়ায় নিজ বাড়িতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা দীর্ঘ সময় ধরে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সফল হননি। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. শেখর সালকারের বক্তব্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পর নানা পাটেকারকে প্রায় ৪৫ মিনিট সিপিআর দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তার হৃদ্স্পন্দন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
নানা পাটেকরের মৃত্যুর ঘটনায় মেডিকেল-লিগ্যাল কেস নথিভুক্ত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। এ সময় তার ছেলে মালহার পাটেকার পুনেতে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তিনি গোয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।
১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া নানা পাটেকরের প্রকৃত নাম বিশ্বনাথ পাটেকার। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে শক্তিশালী সংলাপ উপস্থাপন, তীব্র অভিনয়শৈলী এবং ব্যতিক্রমী চরিত্র ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার মাধ্যমে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন।
অভিনয় জীবনে তিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ‘নাটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘অব তক ছাপ্পান’ ও ‘ইয়েশবন্ত’সহ বিভিন্ন সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।
১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে তার অভিষেক হয়। এরপর একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। বিশেষ করে ২০০০-এর দশকে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’, ‘অব তক ছাপ্পান’, ‘অপহরণ’ এবং ‘ট্যাক্সি নাম্বার ৯২১১’ সিনেমায় তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ে।
২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় উদয় শেঠি চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। তার অভিনীত চরিত্রটি সিনেমাটির অন্যতম আলোচিত অংশ হয়ে ওঠে। পরে ২০১৫ সালের ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ সিনেমাতেও একই চরিত্রে দেখা যায় তাকে।
এ ছাড়া ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’ সিনেমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেন নানা পাটেকর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নাটক ও চলচ্চিত্র—দুই মাধ্যমেই তার অভিনয়ের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দর্শকদের কাছে তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।
তবে তার মৃত্যুর খবরটি নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের আনুষ্ঠানিকতা ও পরবর্তী চিকিৎসা-আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ময়নাতদন্তসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম শেষ হলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।