
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে এক শিক্ষার্থীর স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দায় প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নসহ চার দফা দাবি জানানো হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈকত হালদার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবীকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর অভিযোগের দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম লিখনও অভিযোগটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান। তিনি বলেন, তদন্তে দায় প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এ ধরনের অভিযোগ মোকাবিলায় প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা এবং সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
সমাবেশ থেকে ঘোষিত চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সৈকত হালদারের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা। এ ছাড়া একই বিভাগের শিক্ষার্থী বন্ধন কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুনরায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, হিম উৎসব-২০২৬-এ ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগের নিষ্পত্তি, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। ধর্মীয় অবমাননার ঘটনায় স্থায়ী বহিষ্কারের বিধান রেখে কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানান তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামসুল আলম প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি দাবিগুলোকে যৌক্তিক বলেও উল্লেখ করেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এক বিবৃতিতে অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো বক্তব্যের সত্যতা যাচাই না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুরো প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ন্যায়বিচারের দাবিকে কেন্দ্র করে যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ, হুমকি কিংবা সহিংসতার পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধর্মীয় অবমাননা ও পারস্পরিক বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবীকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগের পর সৈকত হালদারকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।




