ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষ ও হোটেল কর্তৃপক্ষের সদস্যসহ মোট ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকার মান্নান প্লাজায় অবস্থিত হোটেলটিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে পরিচালিত অভিযানে হোটেলটিতে অবস্থানরত নারী-পুরুষ এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তাঁদের সংশ্লিষ্টতার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলছিল। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাঁদের গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আগে থেকেই অভিযোগ ছিল হোটেলটিকে ঘিরে
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চন্দ্রা এলাকার মান্নান প্লাজায় অবস্থিত আবাসিক হোটেলটিতে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কার্যকলাপ চলছিল। এ বিষয়ে তাঁরা বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করেছেন বলেও জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগে প্রশাসন ও পুলিশ একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করলেও হোটেলটিতে কথিত কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে সেখানে এসব কার্যক্রম চালানো হতো। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে স্থানীয়দের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এসব অভিযোগের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে পুলিশ হোটেলটিতে অভিযান চালায়। এ সময় মোট ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে হোটেলে অবস্থানরত নারী-পুরুষের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ধরনের কার্যকলাপ বন্ধে পুলিশ তৎপর রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
আবাসিক হোটেলগুলোতে আইনবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগ উঠলে সেগুলো খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বের অংশ। তবে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে।
কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকার এই অভিযানকে কেন্দ্র করে হোটেলটির কার্যক্রম ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ আবারও আলোচনায় এসেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে এবং তদন্তে আরও কী তথ্য উঠে আসে, তা পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।