ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
দেশের তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এর আশপাশের এলাকা মাদকমুক্ত রাখতে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে বঙ্গভবনে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা জরুরি। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাদক প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করতে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের শিক্ষা, দক্ষতা ও নৈতিক বিকাশের পাশাপাশি সুস্থ জীবনযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। মাদকের বিস্তার তরুণদের শিক্ষা, ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক মাদক প্রতিরোধ কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা এবং একাডেমিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা ও সমস্যার বিষয়ও রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
প্রতিনিধিদলের উত্থাপিত সমস্যাগুলোর সমাধানে রাষ্ট্রপতি আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার পরিবেশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো নিয়েও সাক্ষাৎকালে আলোচনা হয়।
এদিকে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা, সহকারী অধ্যাপক এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরাও বৈঠকে অংশ নেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানো এবং মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি এ সাক্ষাতের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কী ধরনের নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।