এম এ কাহার বকুল, রংপুর:
রংপুরে ডিজিটাল দক্ষতাকে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার সুযোগে রূপান্তরের লক্ষ্যে ১৭ জন প্রশিক্ষিত তরুণীর হাতে বিনামূল্যে ল্যাপটপ তুলে দিয়েছে ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। শিশু অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় পরিচালিত Skills to Succeed (GG-12) প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া তরুণীরা নিজেদের দক্ষতা আরও উন্নত করার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইনভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজতে পারবেন বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রংপুর নগরের সিও বাজার এলাকায় অবস্থিত ইএসডিও সিলভার জুবিলি ভবনে ‘From Digital Skills to Economic Opportunities: Laptop Handover Ceremony’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (উপসচিব) জিলুফা সুলতানা। এতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা, প্রশিক্ষণার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল ফারুক, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের ম্যানেজার মোহাম্মদ ওবায়দুল হক এবং সংস্থাটির রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের সমন্বয়ক ডা. শারমিন সুলতানা উর্মি। এ ছাড়া রংপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি শাহনাজ পারভিন উপস্থিত ছিলেন।
ইএসডিওর পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রশিক্ষণ, ডকুমেন্টেশন, প্রকাশনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিভাগের প্রধান মো. আমির হোসেন, গ্রাম আদালত প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক মো. মাসুদ রানা, এম এ কাহার বকুলসহ সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের উন্নয়নকর্মীরা। প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইয়ুথ ক্যারিয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ওয়াইসিডিও) সভাপতি এ এস এম সবদার হোসাইন ও নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ আলীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ডিজিটাল দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডিজিটাল মার্কেটিং ও অনলাইনভিত্তিক কাজের প্রশিক্ষণ নেওয়া তরুণীদের অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। প্রশিক্ষণ শেষে অনেকের ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা ল্যাপটপ না থাকায় নিয়মিত অনুশীলন, কাজের নমুনা তৈরি এবং অনলাইন কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে ল্যাপটপ সহায়তা তাঁদের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ থাকলেও এসব ক্ষেত্রে যুক্ত হতে প্রয়োজনীয় দক্ষতার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও নিয়মিত অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডিজিটাল মার্কেটিং, অনলাইন প্রচারণা, কনটেন্ট তৈরি এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো ক্ষেত্রে কাজ করতে ব্যক্তিগত কম্পিউটার ব্যবহার করার সক্ষমতা প্রয়োজন হয়। ল্যাপটপ পাওয়ার ফলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণীরা নিজেদের শেখা বিষয়গুলো চর্চা করার পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রস্তুতি নিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথি জিলুফা সুলতানা তাঁর বক্তব্যে তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিগত দক্ষতা তরুণীদের আত্মকর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অর্জিত দক্ষতা বাস্তবে প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং নতুন সুযোগ অনুসন্ধানে উৎসাহিত করতে পারে।
কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার গুরুত্ব
বিশেষ অতিথি মো. আব্দুল ফারুক যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি সেই দক্ষতা কাজে লাগানোর উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও যথাযথ দিকনির্দেশনা পেলে তরুণীরা নিজেদের যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান করতে পারবেন।
সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের সমন্বয়ক ডা. শারমিন সুলতানা উর্মি বলেন, ডিজিটাল দক্ষতার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত অনুশীলন এবং বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ থাকা জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণীদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করতে পারে।
ল্যাপটপ পাওয়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণীরা তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের প্রশিক্ষণ থেকে তাঁরা প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছেন। তবে ব্যক্তিগত ল্যাপটপের অভাবে নিয়মিত অনুশীলন এবং অনলাইন কাজের প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা ছিল। নতুন ল্যাপটপের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের দক্ষতা বাড়ানো, কাজের নমুনা তৈরি এবং ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইনভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধানে আরও বেশি সময় দিতে পারবেন বলে আশা করছেন।
প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াইসিডিওর সভাপতি এ এস এম সবদার হোসাইনও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত উপকরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণকে কার্যকর করতে নিয়মিত অনুশীলন ও বাস্তব প্রয়োগের সুযোগ প্রয়োজন। ল্যাপটপ সহায়তা প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত দক্ষতা চর্চা এবং কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুতি নিতে সহায়ক হবে।
কর্মসংস্থানের পথে নতুন সম্ভাবনা
ইএসডিওর পক্ষ থেকে জানানো হয়, Skills to Succeed (GG-12) প্রকল্পের মূল লক্ষ্য তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা। ল্যাপটপ বিতরণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো এবং অর্জিত দক্ষতাকে বাস্তব কাজে প্রয়োগের পথ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে তরুণীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণ প্রদানকারী সংস্থা, নিয়োগদাতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও উঠে আসে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ল্যাপটপ সহায়তা কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণীরা নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন। পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক কাজের ক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা অর্জন, ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রস্তুতি এবং আয়ের সম্ভাবনা অনুসন্ধানের সুযোগও বাড়বে। তবে এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান ও আয় কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতার প্রয়োগ, কাজের সুযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সহায়তা অব্যাহত থাকার ওপর।