Eng
আন্তর্জাতিক, জাতীয়, লিড নিউজ

ভারতের বহুজাতিক বিমান মহড়ায় প্রথমবার অংশ নিল বাংলাদেশ

প্রকাশিত: , ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ৯:৩১ অপরাহ্ণ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরের বহুজাতিক বিমান মহড়ায় অংশ নিয়েছে। ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘তরঙ্গ শক্তি-২৬’ নামের এই মহড়ায় আটটি দেশের বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ অংশ নেয়। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে যৌথ বিমান পরিচালনা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর সদস্যরা।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতের রাজস্থানের যোধপুর বিমানঘাঁটিতে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় বিমানবাহিনীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত মহড়াটির এটি ছিল দ্বিতীয় সংস্করণ। এতে বাংলাদেশসহ আটটি দেশের বিমানবাহিনী অংশ নেয়। বহুজাতিক এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা বাড়ানো।
মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অন্য দেশগুলো হলো ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র। এসব দেশের বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ মহড়ার বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত হয়। এ ছাড়া আরও ৩২টি দেশের প্রতিনিধিরা পর্যবেক্ষক হিসেবে এতে উপস্থিত ছিলেন। ফলে বিভিন্ন দেশের সামরিক বিমান পরিচালনা পদ্ধতি, পরিকল্পনা ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়।

এ ধরনের বহুজাতিক মহড়ায় অংশগ্রহণ সামরিক বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনী একসঙ্গে কাজ করার সময় যোগাযোগ, পরিকল্পনা, কারিগরি সমন্বয় এবং পরিচালনাগত দক্ষতার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। মহড়ার মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য এবারের অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, প্রথমবারের মতো বাহিনীটি এ ধরনের বৃহৎ পরিসরের বহুজাতিক বিমান মহড়ায় যুক্ত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অন্যান্য দেশের বিমানবাহিনীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক বিমান পরিচালনা কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মহড়ায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে পেশাগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা বাড়ানো এবং যৌথ কার্যক্রমের মাধ্যমে পারস্পরিক শিক্ষা জোরদার করার লক্ষ্যও ছিল এ আয়োজনের।

আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এ ধরনের মহড়া অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশটির সামরিক বিমান পরিচালনা কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি নতুন সুযোগ তৈরি হলো। তবে এ অংশগ্রহণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত মূল্যায়নের জন্য পরবর্তী কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ হবে।