ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্যে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটের প্রাথমিক ফিজিক্যাল ও ক্রিটিক্যালিটি পরীক্ষা শুরু হয়েছে বলে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হলে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সক্ষমতা যুক্ত হবে।
একই সঙ্গে প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিট চালুর প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এসব কার্যক্রম শেষ করা এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা প্রকল্পের পরবর্তী কারিগরি অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভর করবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর সম্ভাব্য সময় এবং পরবর্তী ধাপগুলোর বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জানানো হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।
প্রকল্পের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়। উপস্থাপিত তথ্যে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রকে তৃতীয় প্রজন্মের আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এবং বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে প্রকল্পটির অগ্রগতি ইতিবাচক বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়েছে।
রূপপুর প্রকল্পের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের আরও কয়েকটি কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। স্বাস্থ্যসেবায় নিউক্লিয়ার মেডিসিনের সুবিধা জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ এবং দেশের প্রথম গবেষণা জাহাজ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করতে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে বিজ্ঞান মেলার আয়োজনের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো, নতুন প্রযুক্তিপণ্য তৈরি এবং বিদেশে রপ্তানি বাড়ানোর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ওপর জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, কে এম বাবর, সানসিলা জেবরিন, সালাহ উদ্দিন, মারদিয়া মমতাজ ও মো. আব্দুল গফুর ছিলেন।
এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন। শুরুতে সভাপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ করেন। পরে পরিচিতি পর্ব ও পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সম্ভাব্য সময় ঘনিয়ে আসায় প্রকল্পটির পরবর্তী ধাপগুলোর অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করবে নির্ধারিত পরীক্ষা, কারিগরি প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ওপর।