ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
ভোলার সদর উপজেলায় নিজ বসতঘর থেকে নাগর সিকদার (৫০) নামে এক কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চানকাজি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
নাগর সিকদার ওই এলাকার মফিজল শিকদারের ছেলে। পেশায় কৃষক হলেও জীবিকার প্রয়োজনে তিনি কিছুদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। সেখানে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে থেকে দিনমজুরির কাজ করতেন। কয়েক দিন আগে তিনি গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ির একটি কক্ষে আড়ার সঙ্গে নাগর সিকদারকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান প্রতিবেশীরা। পরে তাঁদের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
তবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষ হওয়া জরুরি।
ভোলা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, নাগর সিকদারের মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য মরদেহ উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গেছে।
নাগর সিকদারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা কারও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।