Eng
কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, জাতীয়, লিড নিউজ

নুপুর আর ব্রেসলেটে স্বজনদের শনাক্তের চেষ্টা করছেন রিপন

প্রকাশিত: , ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ৪:২৫ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ১০ জনের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন বলে জানা গেছে। পুড়ে যাওয়া মরদেহগুলো শনাক্ত করতে গিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও শোকের মধ্যে পড়েছেন স্বজনেরা। তাঁদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা রিয়াজ মাহমুদ রিপন কয়েকটি অলংকার দেখে নিজের পরিবারের সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে রিপন জানান, একটি মরদেহের পায়ে থাকা নুপুর দেখে তাঁর ভাতিজির কথা মনে হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর ভাতিজার হাতে থাকা সোনালি রঙের ব্রেসলেটও দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে আগুনে মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় অন্যদের চেহারা দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
রিপনের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৭ অক্টোবর) উখিয়ার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন ঢাকার বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিস (২৭), ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ।

স্বজনদের হারিয়ে শোকাহত রিপন জানান, শনিবার উদ্ধার করা ১০টি মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। সেগুলোর মধ্যে ছয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যদের বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে মরদেহের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কোনটি কার, তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য রোববার পরিবারের সদস্যরা ঢাকার মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ে নমুনা জমা দিয়েছেন। পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগতে পারে। ফলে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করতে কত দিন লাগবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন উখিয়ার ওই ইকো রিসোর্টে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করেন। বিকেলে সেগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকেই সেখানে নিহতদের স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। প্রিয়জনদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় মর্গ এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের মালিক তানভীরসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রিসোর্টের রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে সুমনকে কক্সবাজারের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর এখন সংশ্লিষ্ট পরিবারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পরই মরদেহগুলোর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে।