ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
ভুটান সফরে যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেন আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এ সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি এবং চার সহ-সভাপতি। প্রায় এক ঘণ্টার আলোচনায় বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং ফিফার আর্থিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন বাফুফের কর্মকর্তারা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকায় অবস্থানকালে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে ভুটানের রাজধানী থিম্পুর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন ফিফা সভাপতি। তাঁর ভুটান সফরে দুই দিন অবস্থান করার কথা রয়েছে। সফর শেষে ২০ অক্টোবর ফেরার পথে আবারও বাংলাদেশে যাত্রাবিরতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ওই সময় বাফুফের কয়েকজন কর্মকর্তা জাপানে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) বিশেষ কংগ্রেসে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
বাফুফের সহ-সভাপতি ও গভর্নমেন্ট রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরি হ্যাপি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের ফুটবলের বর্তমান পরিস্থিতি ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক ফিফা সভাপতির সামনে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজারে ফিফার অর্থায়নে একটি টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে এই প্রকল্পে ফিফার আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে প্রাথমিক আশ্বাস দিয়েছেন ইনফান্তিনো। তবে সহায়তার পরিমাণ কতটা বাড়তে পারে কিংবা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বাংলাদেশের ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি টেকনিক্যাল সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কক্সবাজারে প্রস্তাবিত এই কেন্দ্রের নির্মাণ ও অর্থায়ন নিয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা তাই দেশের ফুটবলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এবারের ঢাকা যাত্রাবিরতি তাঁর আগের বাংলাদেশ সফরের স্মৃতিও সামনে এনেছে। এর আগে ২০১৭ সালে এক দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন তিনি। দীর্ঘ নয় বছর পর আবারও ঢাকায় এলেও এবার তাঁর অবস্থান ছিল সংক্ষিপ্ত। ভুটান যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে কিছু সময় কাটিয়ে তিনি গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।
বাংলাদেশে ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সফরের ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯৮১ সালে তৎকালীন ফিফা সভাপতি হুয়াও হ্যাভেল্যাঞ্জ ঢাকায় পাইওনিয়ার ফুটবলের উদ্বোধন করেছিলেন। পরে ২০০৬ সালে ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের উদ্বোধন উপলক্ষে বাংলাদেশে আসেন। ২০১২ সালেও তিনি ঢাকা সফর করেন।
এদিকে দেশের ফুটবলে সাম্প্রতিক কিছু বিষয় নিয়েও বাফুফের কার্যক্রম আলোচনায় রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় আসিয়ান কাপের হতাশাজনক ফল এবং ফুটবলারদের নাইট ক্লাব-সংক্রান্ত বিষয় সামনে আসার পর জাতীয় দল কমিটির সভাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ওই সভার আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিফা সভাপতির সঙ্গে এই বৈঠকে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আর্থিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এখন কক্সবাজারের টেকনিক্যাল সেন্টার প্রকল্পে সম্ভাব্য সহায়তা এবং আলোচনার বিষয়গুলো বাস্তবে কতটা অগ্রসর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে দেশের ফুটবলসংশ্লিষ্টদের।