ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া এক যুবককে আটক করেছেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে আটক মো. রাকিবকে পরে হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং তাঁকে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর ২টার দিকে জরুরি বিভাগের ভেতরে রাকিবের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁকে আটক করা হয়। পরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা।
ঢামেক হাসপাতালের দায়িত্বরত আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. শাহাদাত হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই যুবক ভুয়া চিকিৎসক পরিচয় দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে তিনি জানান। পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়।
আটক রাকিবের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী থানার এলাকায়। তিনি ফারুক হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার সাভারের নালিয়া এলাকায় বসবাস করেন বলে জানা গেছে।
অসুস্থ ভাইকে ভর্তি করাতে এসেছিলেন বলে দাবি
আটক রাকিবের দাবি, অসুস্থ ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন। তবে চেষ্টা করেও ভাইকে ভর্তি করাতে পারেননি বলে জানান তিনি। পরে এক ব্যক্তির পরামর্শে নিজেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেন বলে তাঁর বক্তব্য।
রাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পরিচয় দেওয়ার পরই হাসপাতালের আনসার সদস্যরা তাঁকে আটক করেন। তবে তাঁর ভাইয়ের ভর্তি-সংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং চিকিৎসক পরিচয় দেওয়ার পেছনের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
শাহবাগ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, জরুরি বিভাগ থেকে আটক করার পর আনসার সদস্যরা রাকিবকে পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে আসেন। বিষয়টি শাহবাগ থানাকে জানানো হয়েছে। তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার করে প্রবেশ বা চলাফেরার ঘটনা রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের ভিড়ে প্রকৃত চিকিৎসক ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। এ ঘটনায় পুলিশি তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট হওয়ার কথা।