ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে রাজশাহী যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার। তবে নাটোরের বনপাড়ায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে সেই আনন্দের পরিকল্পনা পরিণত হয়েছে শোকের ঘটনায়। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন শহিদুল ইসলাম ও তাঁর আট বছর বয়সী মেয়ে তাসমিয়া বেগম। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁর স্ত্রী রুবিনা আক্তার ও ১২ বছর বয়সী ছেলে লাবিব।
বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত দুর্ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত শহিদুল ইসলামের বয়স ছিল ৪৮ বছর। তিনি মাগুরায় ব্র্যাক ব্যাংকের একটি শাখায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী রুবিনা আক্তার পটুয়াখালীর সুবিদখালী শাখা পূবালী ব্যাংকে সেকেন্ড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরিবারটির বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায়। পূজার ছুটিতে রাজশাহীতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিবারের সদস্যরা যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু পথেই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
আলাদা বাসে যাত্রা, বনপাড়ায় দুর্ঘটনা
স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত রোববার বিকেল ৪টার দিকে রুবিনা আক্তার সন্তানদের নিয়ে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থেকে বাসে ওঠেন। অন্যদিকে, কর্মস্থল মাগুরায় অবস্থান করায় শহিদুল ইসলাম সেখান থেকে আলাদা একটি বাসে যাত্রা করেন। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল রাজশাহীতে স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হয়ে ছুটির সময় কাটানো।
তবে নাটোরের বনপাড়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটে প্রাণহানির ঘটনা। দুর্ঘটনায় মোট ১২ জন যাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম ও তাঁর মেয়ে তাসমিয়াও ছিলেন।
দুর্ঘটনাস্থলেই বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে। অন্যদিকে, গুরুতর আহত রুবিনা আক্তার ও তাঁর ছেলে লাবিবকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
স্বজনদের আহাজারি, এলাকায় শোক
শহিদুল ইসলামের বড় ভাই ফারুক হাওলাদার জানান, পরিবারের সদস্যরা আলাদা স্থান থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু বনপাড়ায় দুর্ঘটনায় তাঁর ভাই ও ভাতিজির মৃত্যুতে পরিবারটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, চাকরির কারণে শহিদুল ইসলাম মাগুরায় থাকতেন। ছুটি পেলে তিনি পরিবারের কাছে ফিরে আসতেন। পূজার ছুটিতে স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর প্রত্যাশা থাকলেও সেই যাত্রা আর পূর্ণতা পেল না।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবু জাফরও এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শহিদুল ইসলাম কর্মস্থলের বাইরে থাকলেও ছুটি পেলেই পরিবারের কাছে ফিরে আসতেন। দুর্ঘটনার খবর মির্জাগঞ্জে পৌঁছানোর পর স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়।
একটি পরিবারের চার সদস্যের মধ্যে দুজনের মৃত্যু এবং অন্য দুজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা ও ছেলের সুস্থতার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
সড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষের মতো দুর্ঘটনা আবারও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তদন্তের ফলাফল জানা প্রয়োজন। আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এখন সংশ্লিষ্টদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।