নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নয় বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সাঈদ হোসেন ওরফে নান্নু (৪২) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার সাঈদ হোসেন দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় দারুল আবরার মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন। তার বাবার নাম মৃত আফফান ডাক্তার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারী শিশুটি ওই মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৪ অক্টোবর দুপুরে মাদরাসায় অতিরিক্ত ক্লাস চলার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অতিরিক্ত ক্লাস চলাকালে শিক্ষক সাঈদ হোসেন কৌশলে শিশুটিকে মাদরাসার অফিসকক্ষে ডেকে নেন। পরে কক্ষের দরজা বন্ধ করে তার সঙ্গে জোরপূর্বক অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ এবং ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে তার সহপাঠী ও আশপাশের কয়েকজন নারী সেখানে এগিয়ে আসেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক পোশাক হাতে নিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে শিশুটি উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে ঘটনার কথা জানায়।
ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে তা মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে শিশুটির মা সেই উদ্যোগে সম্মত না হয়ে আইনের আশ্রয় নেন। গত ২০ অক্টোবর তিনি দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে। একই রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, একটি প্রতিযোগিতা উপলক্ষে মাদরাসায় অতিরিক্ত ক্লাস চলছিল। অন্য শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার পরও শিশুটিকে আটকে রেখে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
ওসি আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে শিশুটির মা থানায় অভিযোগ করলে মামলা রেকর্ড করা হয় এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শিশুটির সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট সব বিষয় তদন্ত এবং আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।