ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
চট্টগ্রামে থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেডিওআয়োডিন ক্যাপসুলের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকায় অপারেশনের পর প্রয়োজনীয় থেরাপির জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন রোগীরা। এতে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় ক্যাপসুল না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
চট্টগ্রামের ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেসে এ ক্যাপসুল সরবরাহ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি পরমাণু শক্তি কমিশনের পরিচালনাধীন। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি ব্যবস্থার বাইরে এই ওষুধ বিপণনের অনুমোদিত ব্যবস্থা নেই। দক্ষিণ আফ্রিকা ও পোল্যান্ড থেকে ক্যাপসুলটি আমদানি করা হয়ে থাকে।
চট্টগ্রামের এই প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে গড়ে ২০ থেকে ২৪ জন থাইরয়েড ক্যান্সারের রোগী চিকিৎসা নেন। বর্তমানে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা যেসব রোগীর রেডিওআয়োডিন থেরাপি প্রয়োজন, তাঁদের ওষুধের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসা নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট রোগীরা।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. পবিত্র কুমার ভট্টাচার্য জানান, কিছুদিন ধরে ক্যাপসুলের সংকট চলছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। শিগগিরই ক্যাপসুল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে থাইরয়েড ক্যান্সার শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ক্ষেত্রে রোগটি শুরুতেই শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নাক, কান, গলা বিভাগে থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের রোগের ধরন ও অবস্থা বিবেচনায় অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অপারেশনের পর প্রয়োজন অনুযায়ী রেডিওআয়োডিন থেরাপি দেওয়া হয়। হাসপাতালের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১২ নম্বর কেবিন এ চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। সেখানে রোগীদের সাধারণত চার থেকে পাঁচ দিন অবস্থান করে থেরাপি নিতে হয়।
চমেক হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড নেক সার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হাসপাতালে প্রতি মাসে গড়ে চার থেকে ছয়টি থাইরয়েড ক্যান্সারের অস্ত্রোপচার হয়। অপারেশনের পর রোগের ধরন অনুযায়ী রেডিওআয়োডিন থেরাপি দেওয়া হতে পারে। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় থেরাপি পেতে বিলম্ব হলে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। এ কারণে চিকিৎসা-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত ফলোআপ গুরুত্বপূর্ণ।
থাইরয়েড হলো গলার সামনের দিকে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির একটি গ্রন্থি, যা শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসায় রোগের ধরন, বিস্তার ও অন্যান্য শারীরিক বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পর আয়োডিন-১৩১ ব্যবহার করে রেডিওআয়োডিন থেরাপি দেওয়া হয়। এ চিকিৎসা নির্দিষ্ট থাইরয়েড কোষ ও অবশিষ্ট ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে সহায়তা করতে পারে।
তবে সব ধরনের থাইরয়েড ক্যান্সারে এ থেরাপি প্রয়োজন হয় না। রোগীর চিকিৎসা কতটা জরুরি এবং কত সময়ের মধ্যে থেরাপি দেওয়া উচিত, তা চিকিৎসক রোগীর অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করেন। তাই ওষুধের সংকটের মধ্যে রোগীদের চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরবর্তী করণীয় ঠিক করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও ক্যাপসুলটির সংকট দেখা দিয়েছিল। পরে ওই বছরের আগস্টে ওষুধ সরবরাহ করা হয় বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। নতুন করে সংকট তৈরি হওয়ায় চিকিৎসাসেবার নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।