নিজস্ব প্রতিবেদক:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্ত এলাকায় বাঘের আক্রমণে এক নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে সীমান্তের ৯০৫ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং বাঘটিকে তাড়ানোর উদ্দেশ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল গ্রামের শরিফা বেগম (৩৪), নজরুল ইসলাম ও আফসার আলী। তাঁদের মধ্যে কে কীভাবে আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ছাগল খুঁজতে গিয়ে বাঘের মুখোমুখি নারী
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে শরিফা বেগম ধানখেতে ছাগল খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছে তিনি দেখতে পান, একটি বাঘ ছাগলটির ওপর আক্রমণ করছে। এ দৃশ্য দেখে ভীত হয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। তখন বাঘটি তাঁর দিকে ধেয়ে এসে আক্রমণ চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
শরিফা বেগমের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় বাঘটি উপস্থিত লোকজনের ওপরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এতে আরও দুজনসহ মোট তিনজন আহত হন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে বাঘটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করলে সেটি সীমান্ত এলাকার দিকে সরে যায়। তবে বাঘটির পরবর্তী অবস্থান কিংবা সেটি কোন দিকে চলে গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুজনকে পাঠানো হয়েছে রংপুরে
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে আহতদের মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বিবেচনায় তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মামুন রহমান জানান, বাঘের আক্রমণে আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রংপুরে পাঠানো হয়।
ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বিজিবি
হাতীবান্ধা থানার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ওসি-তদন্ত) মোশাররফ হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সেখানে বিজিবি সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। আহতদের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেছেন বলে তিনি জানান।
সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যপ্রাণীর এমন উপস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কৃষিজমি, ধানখেত কিংবা গবাদিপশু খুঁজতে গিয়ে সীমান্তের কাছাকাছি যাঁরা চলাচল করেন, তাঁদের সতর্ক থাকা জরুরি। বন্যপ্রাণীর মুখোমুখি হলে সেটিকে ধাওয়া করা, কাছে যাওয়া কিংবা নিজে থেকে ধরার চেষ্টা না করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়া উচিত।
এ ঘটনায় আহত তিনজনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা এবং বাঘটিকে শনাক্ত বা নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে পরবর্তী কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।