ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
রাজধানীর গুলশানে কিংফিশার রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে বৈধ কাগজপত্র না থাকা বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বিত গোয়েন্দা দল। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব পণ্য সংগ্রহ ও বিক্রির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর এ তথ্য জানায়। সংস্থাটির তথ্যমতে, রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুলশানের কিংফিশার রেস্টুরেন্ট লিমিটেডে অভিযান শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে এ কার্যক্রম।
এনবিআরের চারটি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানের নেতৃত্ব দেয় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এতে অংশ নেয় সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট (টিআইআইইউ) এবং মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (ভিএআইআইডি)। অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তায় ছিল স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি-১) সদস্যরা।
সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্চ শুল্ক আরোপযোগ্য অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় শুল্ক পরিশোধ না করে সংগ্রহ এবং বিক্রি করা হচ্ছে—এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল অবৈধ উৎস কিংবা চোরাচালানের মাধ্যমে আনা অ্যালকোহলের মজুত শনাক্ত করা।
পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে এসব পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ আয়কর নথিতে সঠিকভাবে দেখানো হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার বিষয় ছিল।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট লেনদেনের সঙ্গে অর্থপাচারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানের আওতায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
অভিযানে জব্দ করা পণ্যের পরিমাণ, সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির আর্থিক হিসাব এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্রাথমিক অভিযানে পণ্য জব্দের তথ্য পাওয়া গেলেও সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির চূড়ান্ত পরিমাণ কিংবা অর্থপাচারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য ও পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের বিবরণ প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।