ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রধান কার্যালয় বলাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ বিধিনিষেধ ২১ দিন পার হলেও প্রত্যাহার করা হয়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বাটজা)। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বলাকায় প্রবেশ করতে গেলে সাংবাদিকদের প্রধান ফটক থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের জানিয়েছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমতি ছাড়া ভেতরে প্রবেশের সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের অভিযোগ, বিমানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই এ ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। এতে রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর বলাকার প্রধান ফটকে সাংবাদিকদের আটকে দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। সে সময় বিমানের জনসংযোগ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সরাসরি নির্দেশে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
গত ২৫ অক্টোবরও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন দুই টেলিভিশন সাংবাদিক। সৌদিগামী ফ্লাইটে বিঘ্ন এবং যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিতে বলাকায় যান বৈশাখী টেলিভিশনের প্রতিবেদক পার্থ রহমান ও একাত্তর টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রাশেদ আনিস। তবে তাদের প্রধান ফটক থেকে ফিরে যেতে হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের ভাষ্য, সৌদিগামী ফ্লাইটের সমস্যা ও যাত্রীদের দুর্ভোগ নিয়ে প্রায় ২০ দিন ধরে বিমানের কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার চেষ্টা করেও তারা সফল হননি। জনসংযোগ বিভাগের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় বক্তব্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি তাদের।
এ ঘটনায় বাটজার সাধারণ সম্পাদক ইমন চৌধুরী বলেন, বিমান একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় জনস্বার্থে সাংবাদিকদের সেখানে তথ্য সংগ্রহের সুযোগ থাকা উচিত। সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া কিংবা প্রধান ফটক থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে তিনি নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্ত্রীর জবাব ও কার্যকর হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
ইমন চৌধুরীর মতে, সাংবাদিকরা যদি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ করতে না পারেন, তাহলে বিভিন্ন অভিযোগ যাচাই এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ পরিস্থিতিতে তথ্য সংগ্রহের বাধা দূর করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাটজা।
অন্যদিকে, সাংবাদিকদের অভিযোগের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ নিয়ে এ ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।