নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভুয়া ভোটার হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর তিন মাদরাসাছাত্রকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দানারহাট আনছারিয়া ফাজিল মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। আটক শিক্ষার্থীরা হলেন হিমেল, সিয়াম ও মিনহাজ।
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু সায়েমের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় ওই তিনজনকে ভুয়া ভোটার হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আটক তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে হিমেল আলিম দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। অন্য দুজন, সিয়াম ও মিনহাজ আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তবে তারা কীভাবে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তাদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কী ছিল এবং এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সদর উপজেলা, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকা নিয়ে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আসনটিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দিনের শুরু থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যায়। ভোট দিতে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতেও দেখা গেছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ চলাকালে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটারদের সুশৃঙ্খল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব পালন করছেন।
এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে, জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
এ ছাড়া খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলিম নিজামী বটগাছ প্রতীকে এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হোসেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উপনির্বাচনে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে পরিচয় যাচাই ও নির্বাচনী নিয়ম অনুসরণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দানারহাট আনছারিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে তিন শিক্ষার্থী আটকের ঘটনায় পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।