ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে গত ১৬ বছরে ধীরে ধীরে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা। তাঁর দাবি, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের উপযোগী করে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। বিশেষ করে শিক্ষার সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদার যথাযথ সমন্বয় না থাকায় পড়াশোনা শেষে চাকরি পেতে শিক্ষার্থীদের নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে জামালপুর শহরের সর্দারপাড়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে ছাত্রশিবিরের জামালপুর জেলা শাখার আয়োজনে সাথী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে ছাত্রশিবিরের এই নেতা বলেন, ২০০৯ সালে গঠিত শিক্ষা কমিশনের প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের পরিবর্তে পরবর্তী সময়ে শিক্ষা খাতে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে অনিয়মের কারণে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টিও বক্তব্যে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ের পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার কারণে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিবগাতুল্লাহ সিবগার মতে, শিক্ষার্থীরা বর্তমানে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়াশোনা করছেন। শিক্ষাজীবন শেষ করার পর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগও পর্যাপ্ত নয়। শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানো গেলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি উপকৃত হতে পারেন বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
সম্প্রতি পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এটিকে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবেও উল্লেখ করেন। তবে ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কারণ বা পরিসংখ্যান নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি বলে প্রকাশিত বক্তব্যে দেখা যায়।
এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রভাব বিস্তার, অর্থের ব্যবহার এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষসহ বিভিন্ন ভোটারকে ভয় দেখানোর অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিচিতি প্রদর্শন এবং ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কয়েকটি স্থানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও করেন সিবগাতুল্লাহ সিবগা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের ওপর বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ থাকায় অনেক সময় নির্বাচনের প্রকৃত চিত্র যথাযথভাবে প্রকাশ পায় না বলে তিনি মনে করেন। এ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরির দাবি জানান তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মমুখী শিক্ষা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর বক্তব্যে বিভিন্ন উদ্বেগ উঠে এসেছে। এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান ভবিষ্যতে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।