ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
টাঙ্গাইল শহরে সাড়ে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বিপ্লব (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে শহরের পার্ক বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে স্থানীয় লোকজন তাকে দেখতে পেয়ে মারধর করেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলার তদন্তের প্রয়োজনে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হতে পারে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, পার্ক বাজার এলাকা থেকে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে নেওয়া হবে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ীর একটি ভবনের চতুর্থ তলায় চিপস দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিপ্লবের বিরুদ্ধে। শিশুটি বাধা দিলে অভিযুক্ত ইট দিয়ে তার মুখ ও নাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়।
পরে এক রিকশাচালক আহত শিশুটিকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। শনিবার রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার সকালে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার শিশুটির বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস জানান, শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে ঢাকায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার গভীর রাতে হাসপাতালে গিয়ে শিশুটিকে দেখেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। শিশুটির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক আল আমিন সিদ্দিকী জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা পর্যায়ে পাওয়া আলামত থেকে শিশুটিকে ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে বলে চিকিৎসক দলের ধারণা। শিশুটির নাক ফেটে যাওয়ার পাশাপাশি ঠোঁট, নাক ও মুখে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত চলছে। আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে গুরুতর আহত শিশুটির চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।