মৌসুমের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারার পর বার্সেলোনার সামর্থ্য নিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোচনা শুরু হয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে এবং এল ক্লাসিকোয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হেরেছে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। তবে দলের এই কঠিন সময়েও বার্সেলোনার পারফরম্যান্স ও সক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন ইংলিশ উইঙ্গার অ্যান্টনি গর্ডন। তাঁর দৃঢ় দাবি, পিএসজি কিংবা রিয়াল মাদ্রিদ—কোনো দলই বার্সেলোনার চেয়ে এগিয়ে নেই। এমন ধাক্কার পর বার্সেলোনার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তাঁর বিশ্বাস, যেকোনো দিন যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য আছে তাঁর দলের।
গত ২০ অক্টোবর পিএসজির কাছে হারের আগ পর্যন্ত চলতি মৌসুমে অপরাজিত ছিল বার্সেলোনা।
এরপর ২৫ অক্টোবর রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে পরাজয় মেনে নিতে হয় তাদের। নাচতে যাওয়ার স্বাধীনতা ও স্ত্রীর রান্নার কোর্সের খরচ: ফুটবলারদের চুক্তিতে যত অদ্ভুত শর্ত।
২০১৫ সালের পর থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা না জেতা স্প্যানিশ ক্লাবটির জন্য এই হারগুলো বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা দিয়েছে। তবে গর্ডন মনে করেন, পরাজয়ের দায় কোনো প্রতিপক্ষের এগিয়ে থাকার কারণে নয়, বরং নিজেদের ভুলের কারণেই এসেছে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, বড় ম্যাচের চাপ ও ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়েই তারা সামনে এগিয়ে যেতে চান।
পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচটির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গর্ডন জানান, প্রতিপক্ষ পিএসজি সেই ম্যাচের আগে নিজেদের লিগে পুরো দলকে বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু বার্সেলোনার সেই সুবিধা ছিল না। ফলে ক্লান্ত শরীর নিয়েই তাদের লড়াই করতে হয়েছে, যা মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে। যদিও এই অজুহাত দিতে নারাজ গর্ডন, তবে তিনি মনে করেন প্রতিপক্ষ বড় সুযোগ পেয়েছিল। ফলে ক্লান্তি নিয়েই খেলতে হয়েছে তাঁদের।
রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এল ক্লাসিকো নিয়ে গর্ডনের আক্ষেপ আরও বেশি। কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলটি নির্ধারণ করে দিলেও গর্ডনের মতে, বার্সেলোনা ম্যাচে অনেক ভালো খেলেছে এবং তাদের পজেশন ও সুযোগ তৈরির হার ছিল বেশি। তিনি বলেন, 'মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচটিই সেই ম্যাচ, যেটি আমরা সবচেয়ে বেশি জিততে চাই। আমার মনে হয়, ম্যাচে আমরাই ভালো দল ছিলাম কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি।' সামান্য ভুল বা উদাসীনতার কারণেই যে বড় ম্যাচ জেতা সম্ভব হয় না, তা এখন অনুধাবন করছেন এই উইঙ্গার। আর্জেন্টিনার ‘কসাই’ এখন ইউনাইটেডে সবচেয়ে ‘গোলমাল পাকানো লোক’। আমার ও আমার পরিবারের জন্যও অনেক বড় পরিবর্তন। যখন সেটা হবে, তখন আপনারা আমার সেরাটা দেখতে পাবেন।
আগামীকাল চ্যাম্পিয়নস লিগে ক্যাম্প ন্যুতে ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে নামবে বার্সেলোনা। এরপর রোববার লা লিগায় আতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে তারা। অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে গর্ডনের কণ্ঠে বাড়তি সতর্কতা থাকলেও কোনো বিশেষ অনুপ্রেরণার কথা তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষ হিসেবে অ্যাস্টন ভিলার কোচ উনাই এমেরি অত্যন্ত দক্ষ এবং বর্তমানে চ্যাম্পিয়নস লিগে তারা শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে দারুণ ফর্মে রয়েছে। ইংলিশ ক্লাব বলে বাড়তি কোনো অনুপ্রেরণা কাজ করছে না তাঁর, ‘আমি সব সময় একই রকম অনুপ্রাণিত থাকি। ভাইকিং, ফেনেরবাচে ও ক্লাব ব্রুজকে হারিয়েছে ক্লাবটি।
গত গ্রীষ্মের দলবদলের বাজারে ৮ কোটি ইউরো পর্যন্ত মূল্যে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেন গর্ডন। ২৫ বছর বয়সী এই তারকা এখন পর্যন্ত ১৩টি ম্যাচে ৩টি গোল করেছেন এবং ৫টি গোল করিয়েছেন। তবে গর্ডনের মতে, বার্সেলোনার হয়ে নিজের সেরা রূপটি এখনো সমর্থকদের সামনে আনতে পারেননি তিনি। নতুন পরিবেশ ও দলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সময়ের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি আশাবাদী যে, মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হলে খুব দ্রুতই তাঁর সেরা পারফরম্যান্স দেখা যাবে। ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সেলোনার হয়ে ১৩ ম্যাচে করেছেন ৩ গোল, করিয়েছেন ৫টি। গত গ্রীষ্মের দলবদলে নিউক্যাসল থেকে গর্ডনকে দলে টেনেছে বার্সেলোনা। বেড়ে উঠতে, মানিয়ে নিতে এবং এখানে থিতু হতে কিছুটা সময় লাগবে। এক দ্বীপে দুই কিং, একজনের নাম ভিভ, অন্যজন চার্লস।