Eng
জাতীয়, লিড নিউজ

৫২তম বিসিএস কি বিশেষ হবে? চাকরিপ্রার্থীদের সংশয় ও আলোচনা

প্রকাশিত: , ৪ নভেম্বর ২০২৬ | ৭:৩০ অপরাহ্ণ



পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে জনবল বাড়াতে সরকার একটি বিশেষ বিসিএস আয়োজনের চিন্তাভাবনা করছে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় হাজারো চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে নতুন করে কৌতূহল ও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। আলোচনা অনুযায়ী, এই বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন এএসপি নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিশেষ উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে তা বিসিএস প্রত্যাশীদের নিয়মিত নিয়োগ পরীক্ষার সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আশঙ্কাই সাধারণ ক্যাডারপ্রত্যাশীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছে। নিউজিল্যান্ড শিক্ষার্থী ভিসায় আনল চার পরিবর্তন।

তবে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এই গুঞ্জনের সত্যতা নিয়ে পরিষ্কার অবস্থান জানিয়েছে। কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান জানান, ৫২তম বিসিএস পরীক্ষা বিশেষ হবে কি না, সেই বিষয়ে কমিশনের বোর্ড সভায় এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র বা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এখন পর্যন্ত তাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চাহিদা পাওয়ার পরই কেবল বিষয়টি কমিশন সভায় অনুমোদনের জন্য তোলা হয়, তাই ৫২তম বিসিএসের চূড়ান্ত রূপ সরকারের চাহিদাপত্রের ওপরই নির্ভর করছে।

এর আগে পিএসসির পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে ৫২তম বিসিএসকে একটি সাধারণ বিসিএস হিসেবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু নতুন করে বিশেষ বিসিএসের আলোচনা শুরু হওয়ায় সাধারণ ক্যাডারপ্রত্যাশীরা আশঙ্কা করছেন যে, তাদের জন্য নিয়মিত বিসিএস বিজ্ঞপ্তিটি আরও পিছিয়ে যেতে পারে। সাধারণত বিশেষ বিসিএসের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার দীর্ঘ প্রক্রিয়া থাকে না, ফলে অল্প সময়ে নিয়োগ শেষ করা যায়। সরকারের জরুরি জনবল সংকট মেটাতে বিশেষ বিসিএসকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও, বারবার এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ বিসিএস প্রার্থীদের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিবছর ক্যাডার পদগুলোর জন্য সাধারণ বিসিএসের অপেক্ষায় থাকেন দেশের লাখ লাখ চাকরিপ্রার্থী। আর ৫২তম বিবিসিএস যদি শেষ বিসিএস হয় তবে চাকরিপ্রত্যাশীদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হবে। ৫২তম বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কিছু সময় যাবে পিএসসির। ইউরোপের ঘণ্টাপ্রতি বেতন যে ১০ দেশে সবচেয়ে বেশি।

উদাহরণস্বরূপ, ৫১তম বিসিএস সাধারণ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের বিশেষ বিসিএস হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বিসিএসে ৪ হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন ও ৩০০ জন ডেন্টাল সার্জন পদের বিপরীতে ৪৪ হাজার ৬৩৫ জন চিকিৎসক আবেদন করেছেন। সেই বিসিএসের আবেদন প্রক্রিয়া সম্প্রতি শেষ হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল পিএসসি এবং বর্তমান রোডম্যাপ অনুযায়ী চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যেই সেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশে এএসপি নিয়োগের বিশেষ এই প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের বনিয়াদি প্রশিক্ষণের সময়কাল কিছুটা কমিয়ে দ্রুত মাঠপর্যায়ে পদায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই বিশেষ নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই পুরো বিষয়টি এখন পর্যন্ত নীতি নির্ধারণী পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে। যতক্ষণ না সরকারি কর্ম কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চাহিদাপত্র পাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কমিশন তাদের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সাধারণ বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়েই অগ্রসর হবে।