ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সার কারখানার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ ক্যাম্পের নিজ কক্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই)। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিজের নামে ইস্যু করা সার্ভিস পিস্তলের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম জাহাঙ্গীর হোসেন তালুকদার। তার বয়স ৫২ বছর। তিনি সশস্ত্র উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার পূর্ব খাবাশপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আলী আকবর তালুকদার।
পুলিশের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে আশুগঞ্জ সার কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন এসআই জাহাঙ্গীর। একপর্যায়ে ক্যাম্পের ভেতরে নিজের কক্ষে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তারা সেখানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের বিষয়টি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে আলোচনায় এলেও এর পক্ষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে পারিবারিক বিরোধকে মৃত্যুর নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আরাফাতুল ইসলাম জানান, ওই পুলিশ সদস্য নিজের নামে বরাদ্দ করা সার্ভিস পিস্তল দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। স্বজনেরা আসার পর তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।
একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তার এমন মৃত্যুতে ক্যাম্পের নিরাপত্তাব্যবস্থা, ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে মৃত্যুর বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
তবে এ ঘটনায় তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল, মৃত্যুর পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার আগে তার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।