প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের শুভ সূচনা করবেন। দুপুর ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন তিনি। এর ফলে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় অনলাইনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি একযোগে সম্প্রচার করা হবে। তৃণমূল পর্যায়ের শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এই আসরে এবার ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল পর্যায় থেকে শিশু ও কিশোরদের খেলাধুলার প্রতিভা বিকাশে আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ এ এবার রেকর্ডসংখ্যক ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন। যা দেশের ৫০৩ উপজেলায় সম্প্রচারিত হবে। নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা ||।
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে খুলনা নগরী এখন নতুন সাজে সেজেছে। সফর ও কর্মসূচি সফল করতে জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সামনে রেখে নতুন এক খুলনা শহর উপভোগ করছে মানুষ। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ”।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামসহ ভিআইপি যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলো নতুন করে সাজানো হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেয়ালগুলোতে সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ, মোংলা বন্দরসহ খুলনার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নান্দনিক গ্রাফিতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে জেলা স্টেডিয়ামের সাজসজ্জায়, যেখানে ম্যুরাল ও গ্রাফিতির মাধ্যমে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও স্থানীয় ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। স্টেডিয়ামের প্রবেশপথ সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। নগরীর সরকারি প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে স্থান পেয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ, মোংলা বন্দর, পাটকল, খ্যাতিমান বিজ্ঞানী ও শিল্পীদের পাশাপাশি খুলনার ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে নানা গ্রাফিতি। স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন দেয়াল। প্রবেশপথের মেঝেতে বসানো হয়েছে টাইলস। সেখানে অকর্ষণীয়ভাবে স্টেডিয়ামের নাম লেখা হয়েছে। সরিয়ে ফেলা হয়েছে নেতাকর্মীদের লাগানো ফেস্টুন।
এবারই প্রথম সরকার প্রধানের আগমনে নগরীতে যত্রতত্র তোরণ বা ব্যানার-ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে না। খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রাখতে গত ১২ দিনে প্রায় সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। ব্যানার-তোরণের বদলে পরিবেশবান্ধব উপায়ে সৌন্দর্যবর্ধনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে গত ১২ দিন ধরে মহানগরীর প্রবেশপথের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উম্মুক্তস্থানের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। সেই স্থানে কেসিসির সুসজ্জিত আয়োজন বাড়তি একটি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকালে হেলিকপ্টারযোগে মোংলায় পৌঁছে উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এরপর খুলনার সার্কিট হাউসে বিরতি শেষে বিকেলে তিনি জেলা স্টেডিয়ামে মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন জানান, প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। রূপসার কুদির বটতলা থেকে বাইপাস সড়ক ও শেরেবাংলা রোড হয়ে পাওয়ার হাউস মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কের দুই পাশে নেতাকর্মীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন।