
টানা কয়েক দিনের অস্থিরতা, সড়ক অবরোধ এবং সংঘর্ষের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে জনজীবন ও উৎপাদন ব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই অঞ্চলটির বেশিরভাগ পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে এবং শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি বর্তমানে ১৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান জানিয়েছেন, বর্তমান ঘটনাকে কেবল শ্রমিক আন্দোলন বলা যায় না। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে একটি ফ্যাসিস্ট শক্তি পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির হীন চেষ্টা করা হচ্ছে এবং শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এসব ধ্বংসাত্মক কাজ চালানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের লাঠি হাতে পুলিশের সঙ্গে থেকে শ্রমিকদের প্রতিহত করার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, এক সময় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেখা যেত, আর বর্তমানে বিএনপি কর্মীদের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করতে দেখা যাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, পুলিশ একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী হিসেবে কাজ করে। রাষ্ট্রের জানমাল রক্ষা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাই তাদের মূল দায়িত্ব। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা অন্য কেউ গুন্ডামি করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ালে পুলিশ তা কখনোই উৎসাহিত করে না। বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পুলিশ সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশি নজরদারি অব্যাহত রয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।




