ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচটি একপেশে দাপটে নিজেদের করে নিয়েছে ভারত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমে শুরু থেকেই দুর্দান্ত সব আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে দিশেহারা করে তুলেছে তারা। মাঠের লড়াইয়ে দর্শকদের উপস্থিতি সীমিত থাকলেও ভারতের আক্রমণের ধার ছিল দেখার মতো। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই ঘিরে প্রত্যাশা থাকলেও গ্যালারিতে দর্শকের উপস্থিতি ছিল হাতেগোনা। অন্যদিকে, পাকিস্তানও মাঝেমধ্যে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে। তবে ভারতের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় সেসব প্রচেষ্টা খুব একটা সফল হয়নি।
ম্যাচের ১৩তম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় ভারত। বাঁ প্রান্ত দিয়ে মুহাম্মদ সুহাইলের গতির তোড়ে তৈরি হওয়া আক্রমণে সুহাইল আহমেদ ভাট লক্ষ্যভেদ করে দলকে এগিয়ে দেন। গোল খেয়ে কিছুটা ছন্নছাড়া হয়ে পড়া পাকিস্তানি রক্ষণভাগকে আরও চেপে ধরে ভারত। ১৯তম মিনিটে রিকি জন শাবংয়ের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন সুহাইল আহমেদ ভাট। নিজের দ্বিতীয় গোলটি করার পাশাপাশি ভারতের ব্যবধান ২-০ করেন এই ফরোয়ার্ড। ১৯ মিনিটে রিকি জন শাবংয়ের পাস থেকে বল পেয়ে যান সুহাইল আহমেদ ভাট। তবে ম্যাচের প্রথমার্ধে ভারতের দাপটের সামনে বেশ অসহায়ই মনে হয়েছে তাদের।
প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার আগেই ভারতের জয়ের ভিত আরও মজবুত হয়। মাংলেনথাং কিপগেন প্রতিপক্ষের জালে তৃতীয় গোলটি জড়ান। নিজের অর্ধ থেকে নওফাল বল নিয়ে পাকিস্তানের রক্ষণে ঢুকে চাপের মুখে বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে কিপগেনকে পাস দেন, যার দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ভারত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায়। ৩৫ মিনিটে পাকিস্তান একবার ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল, তবে তাতে কোনো সাফল্য আসেনি। ১৩ মিনিটেই এগিয়ে যায় ভারত। তার নেওয়া শট পাকিস্তানের গোলরক্ষক হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বল জালে জড়ায়।
এদিকে, মাঠের বাইরে ও ভেতরে দুই দলের খেলোয়াড়দের সম্পর্কের বিষয়টি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ক্রিকেট মাঠে ভারত ও পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের মধ্যে করমর্দন না করার চিত্র দেখা গেলেও ঢাকায় ফুটবলের মঞ্চে ছিল ভিন্ন দৃশ্য। জাতীয় সংগীতের পর দুই দলের ফুটবলারদের বন্ধুত্বপূর্ণ ভঙ্গিতে একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা যায়। ভারতের প্রধান কোচ নওশাদ মুসা আগের দিন সংবাদ সম্মেলনেই এমন সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।