ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান সিলেট টেস্টে দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। লাঞ্চ বিরতির আগে ৮৪ রান খরচায় পাঁচ উইকেট নিয়ে তিনি এই অর্জনের খাতা পূর্ণ করেন। লাঞ্চের সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে আরও দুই উইকেট বাকি থাকায় ইনিংসে নিজের উইকেটসংখ্যা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল তার সামনে। এরপর ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতেও ফাইফার পেয়েছেন এই ডানহাতি পেসার।
হাসানের পাঁচ উইকেট পূর্ণ হওয়ার মুহূর্তটি ছিল বেশ দৃষ্টিনন্দন। অফ স্টাম্পের বাইরে দেওয়া ফুল লেংথের বলটি ড্রাইভ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন ক্যারিবীয় ব্যাটার জশুয়া বিশপ। শট খেলার চেষ্টায় ভারসাম্য হারিয়ে তিনি পেছনের পা সামান্য তুলে ফেলতেই চোখের পলকে স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো পেসারের বলে এটিই প্রথম স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে উইকেট পাওয়ার ঘটনা। ফলে হাসানের ফাইফারের পাশাপাশি ইতিহাস গড়েছেন লিটনও।
২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের পর দেশের বাইরে একের পর এক সাফল্য পেলেও ঘরের মাঠে ফাইফারের জন্য হাসানকে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে। একই বছরের আগস্টে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টে ৪৩ রান দিয়ে নিজের প্রথম ফাইফার পান তিনি। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরে ভারতের চেন্নাই, ২০২৬ সালের আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন এবং একই বছরের অক্টোবরে আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নেন। সিলেট টেস্টের মাধ্যমে নিজের ১৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে পাঁচটি ভিন্ন দেশে পাঁচ উইকেট শিকারের অনন্য কীর্তি গড়লেন হাসান। আন্তর্জাতিক টেস্ট ইতিহাসে অজি স্পিনার নাথান লায়নের পর কেবল হাসানই দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন দেশে ফাইফার নেওয়ার এই বিরল নজির স্থাপন করলেন। ভেন্যুগুলো হলো রাওয়ালপিন্ডি, চেন্নাই, ডারউইন, আবুধাবি ও সিলেট।
বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে সবচেয়ে কম ম্যাচে একাধিকবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার তালিকায় এখন শীর্ষে অবস্থান করছেন হাসান মাহমুদ। দেশীয় পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ চারবার ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নিয়ে ওপরে আছেন সাবেক পেসার শাহাদাত হোসেন, যিনি ৩৮টি টেস্টে এই কীর্তি গড়েছিলেন। এ ছাড়া বর্তমান ও সাবেক পেসারদের মধ্যে নাহিদ রানা ১২ টেস্টে এবং রবিউল ইসলাম ৯ টেস্টে দুইবার করে ফাইফারের দেখা পেয়েছেন। অন্যদিকে মঞ্জুরুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, এবাদত হোসেন, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম টেস্ট ক্যারিয়ারে একবার করে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ৩৮ টেস্টে চারবার ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন তিনি।