Eng
জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ, সারা দেশ

অবৈধ মোবাইল ফোন ঠেকাতে নতুন বছরে চালু হচ্ছে এনইআইআর

প্রকাশিত: , ২২ অক্টোবর ২০২৬ | ৪:৩৭ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:

অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানি, উৎপাদন, চোরাচালান ও অনুমোদনহীন বিক্রির মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি রোধে জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর) পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এই ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়ন অনুযায়ী, অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে সরকার বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বিটিআরসির কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রেও এ আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করা হ্যান্ডসেট শনাক্ত, ক্লোন মোবাইল ফোন চিহ্নিত এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের পরিচয় নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল কার্যক্রম চালু করা হবে। এ পর্যায়ে মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে না। বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে সচল থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের আওতায় আসবে।

এ ছাড়া অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের কাছে থাকা অবিক্রীত মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বরের তথ্যও ব্যবস্থাটিতে যুক্ত করা হবে। এর ফলে বৈধ ও অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্ত করার প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। পরিকল্পনায় শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা, চোরাচালানের মাধ্যমে আনা এবং অনুমোদনহীন হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে বন্ধ করার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত সময়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ পর্যায়ে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
বিটিআরসির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাপরিচালক কমিশন সভায় এনইআইআর পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত কার্যপত্র উপস্থাপন করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবস্থাটি চালু হলেও পরবর্তী সময়ে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। এতে ব্যবস্থাটির মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি বলে কার্যপত্রে বলা হয়েছে।

এনইআইআর বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে বিটিআরসির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। দুই ধাপে কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সরকারের পূর্বানুমোদন চেয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে বিটিআরসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায় এনবিআর। ২০২৫ সালের ২৮ জুন এ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বছরের ১ ডিসেম্বর উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় দেশের সব নেটওয়ার্কে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি থাকলেও জনভোগান্তির আশঙ্কা বিবেচনায় ফোন বন্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো কার্যকর করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তা জানায়।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর উচ্চপর্যায়ের সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এনইআইআর চালুর সুপারিশ করা হয়। তবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, অনুমোদন এবং কার্যকর পদ্ধতি সম্পর্কে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শুধু দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধে পর্যায়ক্রমিক রূপরেখাও অনুমোদন করেছে বিটিআরসি। এ পরিকল্পনার আওতায় এ ধরনের ফোনের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে বিধিনিষেধ আরোপের কথা রয়েছে।