Eng
জাতীয়, বগুড়া, রাজশাহী, লিড নিউজ

বগুড়ার উন্নয়নে কোনো ছাড় নয়, জানালেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

প্রকাশিত: , ২২ অক্টোবর ২০২৬ | ৭:০৬ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

বগুড়ার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ঘাটতি পূরণে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, বগুড়ার উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। দেশের সব অঞ্চলের ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার পাঁচ তারকা হোটেল মম ইনে ‘বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত এ সেমিনারে জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা, সম্ভাবনা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত দুই দশকে বগুড়ার মানুষ প্রত্যাশিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পেলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ তখন মাত্র সাত মাস। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব অঞ্চলের সমান উন্নয়নে বিশ্বাস করেন। বগুড়ার জন্য আলাদা কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করা হচ্ছে না; বরং দীর্ঘদিনের পিছিয়ে থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বগুড়ার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণসহ মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। পাশাপাশি বগুড়া বিমানবন্দরকে কেবল অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বহুমাত্রিক বিমানবন্দর হিসেবে চালুর লক্ষ্যেও কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বগুড়া সিটি করপোরেশনের জন্য ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শহরের যানজট কমানো এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানান তিনি। বগুড়া শহরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া বগুড়ায় ওয়াসা প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত অনুমোদন, বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন, স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং পৌর এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

নদী ও বন্যা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্যে মীর শাহে আলম জানান, করতোয়া নদীর কাটাখালী থেকে চার কিলোমিটার এলাকায় খনন ও পুনঃখননের জন্য ১ হাজার ৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ধুনট ও সারিয়াকান্দি উপজেলায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং নদীকেন্দ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমে ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গোপালগঞ্জ জেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার বগুড়া ও গোপালগঞ্জসহ দেশের কোনো অঞ্চলকে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে চায় না; সব এলাকার সমান উন্নয়নই তাদের নীতিগত অবস্থান।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এবারের দুর্গোৎসবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে গিয়ে দেশের তিনটি অঞ্চলে দুর্গাপূজা পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান তিনি।
সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এবং বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।