Eng
জাতীয়, ঢাকা, রাজনীতি, লিড নিউজ

সংবিধান মানলে সরকার হলেন কীভাবে, বিএনপিকে শফিকুর রহমান

প্রকাশিত: , ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | ৩:০৭ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংবিধান মেনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। তাহলে সেই নির্বাচন ছাড়া বিএনপি সরকার গঠন করল কীভাবে, আর জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দলে এলো কীভাবে—এমন প্রশ্ন তুলে সংবিধান নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, সংবিধান মেনে দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর সভা-সমাবেশ ও মিছিলের রাজনীতি করতে হয়েছে। তবে এসব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটানো সম্ভব হয়নি। জামায়াত ও বিএনপি—কোনো পক্ষই তখন সফল হতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমিরের ভাষ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় বিএনপির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা কারাগারে ছিলেন। সে সময় তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় শেখ হাসিনার সরকারকে বিদায় করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন বলেও জানান।

বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পর রাজনৈতিক নেতারা অনেক বিষয় ভুলে গেছেন। তাঁর দাবি, জামায়াতে ইসলামীকে দীর্ঘ সময় সভা-সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর অনুমতি না পেলেও সমাবেশ করার সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সাত মাসের বেশি সময় রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে আলোচনা করে অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সনদ তৈরি করা হয়েছিল। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও যুক্ত ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর সনদে অংশীজনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শুরুতে স্বাক্ষর না করলেও পরবর্তী সময়ে দলটি সনদে স্বাক্ষর করে।
গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একই দিনে আয়োজনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, তাঁদের প্রস্তাব ছিল আগে গণভোট, পরে সংসদ নির্বাচন। দুটি ভোট একসঙ্গে হলে ভোটারদের কাছে বিষয়গুলো গুলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

একই দিনে ভোট আয়োজনের বিষয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলটি গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিল। তবে বক্তব্যে উত্থাপিত এ অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।
সংস্কার ও গণভোটের ফল বাস্তবায়নের দাবি
ডা. শফিকুর রহমানের দাবি, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে জনগণ রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা জরুরি। সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগে মতভিন্নতা থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান তিনি। নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত থাকা বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, অতীতে একাধিকবার সংবিধান সংশোধন করা হলেও কিছু সংশোধনী আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাই আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়িয়ে টেকসই সংস্কারের পথে এগোনো প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে দ্রব্যমূল্য ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার প্রসঙ্গও তোলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সরকারপ্রধানের ব্যক্তিগত খাবারের ব্যয়ের চেয়ে সাধারণ মানুষ যেন স্বস্তিতে খাবার খেতে পারে, সেই বিষয়টিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার। মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান তিনি।
এদিকে, ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চ আয়োজনের কথা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কর্মসূচি ঘিরে কোনো ধরনের বাধা বা ষড়যন্ত্র কাম্য নয়। অতীতের লংমার্চের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাধা এলেও তাঁরা কর্মসূচি বাস্তবায়নে দৃঢ় থাকবেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, তাঁদের রাজনৈতিক আন্দোলনের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের বিজয় নয়; বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা।