
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকরা। রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে চলা এ কর্মসূচিতে সড়কে আগুন জ্বালানো, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকেলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন এবং পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে নেমে অবরোধ শুরু করেন। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে তাদের এ আন্দোলন চলছে। একপর্যায়ে বিক্ষোভের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
আন্দোলন চলাকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা মহাসড়কের দুই পাশে কাঠ ও বাঁশ ফেলে আগুন জ্বালিয়ে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও আশপাশের এলাকায় চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল (মন্ডল) গার্মেন্টসের একটি ফেব্রিক্স কারখানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া যমুনা ব্যাংকের একটি শাখা, সড়কে থাকা বিভিন্ন যানবাহন এবং কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলার পর বিকেল ৩টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এর মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সকাল থেকেই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি শিল্প পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী এলাকার অধিকাংশ কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপের পর পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে বলে তিনি জানান।
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান এ পরিস্থিতিতে শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় রাখা সংশ্লিষ্টদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, হতাহতের সংখ্যা কিংবা আন্দোলনকারীদের পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।




